Subhas Chandra Bose Jayanti 2022:  আসন্ন ১২৬-তম জন্ম বার্ষিকীর আগে ফিরে দেখা, মহান বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র বোসের কৃতিত্ব
Parakram Day 2022 (Photo Credits : File Image)

"তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।" তাঁর উদাত্ত কণ্ঠের এই ডাক শুনে দলে দলে পথে বেরিয়ে পড়েছিল ছেলের দল। দেশকে পরাধীনতা মুক্ত করতে অত্যাচারী ইংরজে শাসকের বিরুদ্ধে লড়তে। তিনি একজন মহান বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী নেতা। ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর ২৩ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালিত হয়। আগামী রবিবার চলতি বছরে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের (Subhas Chandra Bose Jayanti 2022) জন্মদিন। সরকারি জাতীয়তাবাদ দিবস সাহসী দিবস হিসেবেই পালিত হয়। এবছর নেতাজির ১২৬-তম জন্মজয়ন্তী। ১৮৯৭ সালে ওড়িশার কটক শহরে জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবীর পুত্র হিসেবে সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম হয়।

পাঁচ দাদার মতো তিনিও ১৯১৩ সাল নাগাদ কলকাতায় চলে আসেন। ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেইসময় উচ্চবর্ণ বাঙালিদের পরম্পরা হয়ে গিয়েছিল এই প্রেসিডেন্সিতে পঠনপাঠন। কলকাতা থেকে দর্শনে ডিগ্রি অর্জনের পরে তাঁকে বিলেতে আইসিএস পড়তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ১৯২১ সালে দেশে ফিরে ইংরেজ সরকারের চাকরিতে যোগদান করেনি। বরং ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। দেশ থেকে ইংরেজকে তাড়তে শুরু হয় তাঁর নতুন কার্যক্রম।

প্রায় ২০ বছর জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করেছেন সুভাষচন্দ্র। "স্বরাজ" নামের একটি সংবাদপত্রও প্রকাশ করেছিলেন। প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্বও নেন।  এরপর ১৯২৭ সালে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের পদে বসেন সুভাষচন্দ্র বসু।  ঔবনিবেশিকতার বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন তিনি।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে অজানা তথ্য

  • ১৯৪৫ সালে ভারতীয় সেনা সুভাষচন্দ্রকে প্রথম "নেতাজি " আখ্যা দিয়েছিল। অর্থ সম্মানীয় নেতা।
  • জাতীয়তাবাদ বিরোধী মন্তব্য ও ভারতীয় ছাত্রের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার জন্য অধ্যাপক ওটেনের বিরুদ্ধে চড়াও হয়ে কলেজ থেকে প্রথমবার বিতাড়িত হন নেতাজি।
  • ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করার পরে মোট ১১ বার কারাবরণ করেছেন সুভাষচন্দ্র বসু।
  • তিনি ছিলেন প্রগতীশীল চিন্তাবিদ। চাইতেন মহিলারা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুখ্য ভূমিকা নিক অংশগ্রহণ করুক।
  • ১২৬ বছর পরেও নেতাজির মৃত্যু এখনও রহস্যে মোড়া। বহু অনুরাগীই মানতে নারাজ যে বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছে।

বলাবাহুল্য এ বছর থেকে নেতাজিকে সম্মান জানাতে তাঁর জন্মদিনের দিন থেকে শুরু হবে প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপন।