WB Assembly Elections 2021: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে এবার ফিরোজা বিবি, মা ছেলের লড়াই দেখবে নন্দীগ্রাম
শুভেন্দু অধিকারী (Poto Credits: Facebok)

নন্দীগ্রাম, ৩১ ডিসেম্বর: “কুপুত্রের থেকে নিপুত্র ভাল।” আসন্ন বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম দেখবে মা ছেলের মুখোমুখি রাজনৈতিক লড়াই। হ্যাঁ “নন্দীগ্রামের মা” ফিরোজা বিবি এবার ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধেই ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। ছেলে  তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যেতেই সাঙ্গপাঙ্গরা গেরুয়া শিবিরের দিকে দৌড় দিয়েছে। তবে মা দিদির পাশেই রয়ে গিয়েছেন। নব্য দাদার অনুগামী হতে তাঁর মন সায় দেয়নি। দলত্যাগের পর পুত্রসম শুভেন্দু আর মা ফিরোজা বিবির সঙ্গে বার্তালাপ করেননি। এখন এনিয়ে আর কথা বাড়াতেই চান না তিনি। নন্দিগ্রামের ভোটের ময়দানে ছেলের প্রতিপক্ষ হয়েই লড়াইয়ে নামতে নিজেকে তৈরি করছেন নিজেকে। কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘‘মুখের আস্ফালন দেখিয়ে লাভ নেই। সম্মুখ সমরে দেখা হবে।’’

শহিদের মা ফিরোজা বিবিকে একবাক্যে চেনে গোটা নন্দীগ্রাম। ২০০৭-এর ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪ জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়। সেই তালিকায় ছিলেন ফিরোজা বিবির পুত্র শেখ ইমদাদুল। পরে ২০০৯ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনে ‘শহিদের মা’ হিসেবে তাঁকেই প্রার্থী করে দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল, বামফ্রন্ট প্রার্থী সিপিআই নেতা পরমানন্দ ভারতীর বিরুদ্ধে ফিরোজা প্রার্থী হলেও আসলে মেঘের অন্তরাল থেকে লড়াই করছেন ‘মেঘনাদ’ শুভেন্দুই। সেই উপ নির্বাচনে ৩৯,৪৫৯ ভোটে জয় পান নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নিহত শহিদের মা। এরপর একইভাবে জয় ছিনিয়ে নেন ২০১১-র নির্বাচনেও। তবে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তমলুকের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী করে দিলেন, তখন পুত্রস্নেহ ও দিদির আনুগত্য মাথা পেতে নিয়েছিলেন ফিরোজা বিবি। শুভেন্দু ২০১৬-তে নন্দীগ্রামে জিতে ভিধায়ক হলেন। সঙ্গে পেলেন মন্ত্রীত্ব। আর বছর শেষের রাজনৈতিক তরজায় দেখা গেল নন্দীগ্রামের দাপুটে তৃণমূলনেতা এখন গেরুয়া শিবিরের তুরুপের তাস। আরও পড়ুন-Mumbai: রাতের মুম্বইতে মহিলাদের জন্য নেই কোনও শৌচলয়? টুইটারে ক্ষোভ উগরে দিলেন তরুণী

এতদিন মা মাটি মানুষের সরকারের গুণ গেয়ে এখন ভোল বদলে নন্দীগ্রামের মাটিতে পদ্ম ফোটাতে উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। ছেলের এহেন আচরণে বেজায় ব্যাথিত শহিদের মা। এখন রীতিমতো রুষ্ট। বলেই ফেললেন সেকথা, ‘‘লড়াইয়ে আমার ভূমিকা তো থাকবেই! আমি এক সন্তান হারিয়ে হাজার সন্তান পেয়েছি। তাই এক সন্তানের বিরুদ্ধে যদি আমাকে লড়তে হয় তো লড়ব! আমার অবস্থানে কোনও বদল হবে না।’’