ডাক্তারদের তৈরি করা অচলাবস্থায় কেমন আছেন নাগরিকরা, রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের
কলকাতা হাইকোর্ট (File Photo/Photo Credits: PTI)

কলকাতা, ১৪জুন:    চিকিৎসকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিপর্যস্ত রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার (State Government) কী পদক্ষেপ করেছে, এ বার তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট ( Calcutta Highcourt)। আগামী শুক্রবারের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সবিস্তার রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে আদালত। সেই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে বেরিয়ে আসার পরামর্শও দিয়েছে। আরওপড়ুন- West Bengal Doctors' strike: ডাক্তারদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য পুলিশ, এনআরএসের পাশে থেকে সাফ জানালেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ

রাজ্য জুড়ে চিকিৎসকদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন মার্কিন নিবাসী কুণাল সাহা। তিনিও পেশায় চিকিৎসক। চিকিৎসকদের এই ‘কর্মবিরতি’কে বেআইনি ঘোষিত করার আর্জি জানান তিনি। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সরাসরি আদালতের হস্তক্ষেপের দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলেও আলাদা করে অভিযোগ করেন তিনি। তাতে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের লাইসেন্স বাতিল করার দাবি তোলেন।

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি টিবি নায়ার রাধাকৃষ্ণণের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি শুরু হলে, চিকিৎসকদের উপর যারা হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, বেশ কিছু এফআইআর দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজনকে, শুরু হয়েছে তদন্ত। এরপরই আগামী শুক্রবারের মধ্যে রাজ্যকে রিপোর্ট দিতে বলে আদালত। তারপর ফের মামলার শুনানি হবে।

উল্লেখ্য, এনআরএসে কর্তব্যরত জুনিয়র ডাক্তারকে মারধরের ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি হাসপাতালেই চলচে অচলাবস্থা, ইতিমধ্য়েই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এনআরএস ও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রিন্সিপাল। একদল জুনিয়র ডাক্তারদের এই হামলার প্রতিবাদে গড়ে তোলা অচলাবস্থাকে সমর্থন করলেও আর একদলের দাবি, আন্দোলন জারি রেখেও নিজেদের কাজ করুন ডাক্তাররা। কেননা দিনের পর দিন অচলাবস্থার জেরে রোগী মৃত্যুর হার বেড়েছে চলেছে, পরিষেবা না পেয়ে চোখের সামনে প্রিয়জনের মৃত্যু দেখতে বাধ্য হচ্ছেন পরিজনরা। এটা কোনও সমাধানের রাস্তা নয়।