নারদকাণ্ডে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিলেন মুকুল রায়, হতে পারে এসএমএইচ মির্জ়ার মুখোমুখি বসিয়ে জেরা
মুকুল রায় (Photo Credits: IANS)

কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর:  নারদ তদন্তে নিজ়াম প্যালেসে সিবিআই (CBI) দফতরে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায় (Mukul Roy)। শুক্রবার বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে সিবিআই দফতরে হাজির হননি মুকুল রায়। ফলে আজ শনিবার তাঁকে দ্বিতীয়বার তলব করে নোটিস পাঠিয়েছিল সিবিআই। বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডা শুক্রবার রাজ্যে এসেছেন। তাঁকে আনতে বিমানবন্দরে যান মুকুল রায়। জে পি নাড্ডার সঙ্গে বিজেপি আয়োজিত তর্পণ অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি আজ দুপুরে নিজ়াম প্যালেসে সিবিআই দফতরে যান।

নারদাকাণ্ডে আইপিএস অফিসার এসএমএইচ মির্জাকে আগেই গ্রেফতার করেছে সিবিআই। নারদ ভিডিয়ো টেপে এসএমএইচ মির্জাকে ম্যাথু স্যামুয়েলের হাত থেকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। মুকুল রায় সমস্ত বিষয় এড়িয়ে যান। তিনি জানিয়েছেন, .''আমি সেই সময় নির্বাচনে দাঁড়ায়নি। অনেক ছবি প্রতিটা টিভি দেখিয়েছে কোথাও আমাকে কেউ দেখাতে পারেনি। আমি টাকা নিইনি। ওরা ব্যবসার জন্য এসেছিলেন। আমি তখন এসএমএইচ মির্জার সঙ্গে দেখা করতে বলি। কোনও টাকা লেনদেনের কথা বলিনি।'' আরও পড়ুন, রাজীব কুমারের আগাম জামিন আবেদনের শুনানি ফের সোমবার

স্থানীয় সংবাদ সূত্রের খবর, ধৃত আইপিএস এসএমএইচ মির্জাকে ও মুকুল রায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায় সিবিআই। নারদ স্টিং অপারেশনের সেই ভিডিওটি দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। সেখানে তাঁদের মধ্যে বিপুল হয়।

২০১৪ সালে নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল ((Mathew Samuel)) ব্যবসায়ী সেজে স্টিং অপারেশন করেছিলেন বলে দাবি করেন। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নারদা ডট কম নামের এক ওয়েবসাইটের স্টিং অপারেশনে রাজ্যের মন্ত্রী-আমলাদের অর্থ নেওয়ার ছবি ধরা পড়ে। মদন মিত্র থেকে ফিরহাদ হাকিম, অপরূপা পোদ্দার-দের মত নেতা-মন্ত্রী-সাংসদের সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের স্টিং অপরাশনে টাকা নিতে দেখা যায়। ঘুষ নেওয়ার ভিডিওকে তৃণমূল জাল বলে দাবি করে এলেও পরবর্তীকালে চণ্ডীগড়ের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষা করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভিডিওর ফুটেজ খাঁটি। টাকা নিতে দেখা গেছিল এসএমএইচ মির্জ়াকেও। সেই সময় তিনি বর্ধমানের পুলিশ সুপার পদে ছিলেন। ওই ভিডিও থেকেই জানা যায়, মির্জ়া ম্যাথু স্যামুয়েলের (Mathew Samuel) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। সিবিআইয়ের করা এফআইআরে ১২ নম্বরে নাম রয়েছে ওই পুলিশ কর্তার। কেন তিনি ওই টাকা নিয়েছিলেন, কারও নির্দেশে টাকা নিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরে তাঁর বয়ান রেকর্ডের পাশাপাশি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়