এনআরসি-র গেরোয় চন্দ্রযানের উপদেষ্টা বিজ্ঞানী জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী, কী করে তিনি বাদ পড়লেন?
এনআরসি ফাইল ছবি(Photo Credit: ANI)

গুয়াহাটি, ৭ সেপ্টেম্বর: এনআরসি (NRC) যেন বাঙালির কাছে অভিশাপ হিসেবে নেমে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গেল সেখানে নেই ১৯ লক্ষ বাঙালি। এঁদের মধ্যে সাত লক্ষ হিন্দু বাঙালির নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির পরিবার থেকে বিরোধী দলের বিধায়ক, কারগিল যোদ্ধা, স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিজন, বাদ পড়ার তালিকাটি ক্রমশ দীর্ঘ হয়েছে। ধীরে ধীরে শাসকপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে ভুক্তভোগীদের। এবার সেই বাদের তালিকায় সংযোজন হল অসমের আরও এক বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম। তিনি ড. জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী (Jitendra Nath Goswami)। ইসরোর (ISRO) গর্বের চন্দ্রযান-২ নিয়ে যখন গোটা দেশ তোলপাড় আর সেই কর্মযজ্ঞেরই একজন অন্যতম হলেন এই জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী।

ড. জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী, যিনি কিনা চন্দ্রযান ২-এর অন্যতম উপদেষ্টা, তাঁরই নাম নেই চূড়ান্ত তালিকায়। গর্বের দিনেও যা লজ্জার সমান ভারতবাসীর কাছে। এদিকে চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটি ছুঁয়ে সাফল্য আনতে পারেনি, মুষরে পড়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এরমধ্যে নাগরিকত্ব ফিরে পেতে তৎপর হয়েছেন জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী। যেভাবেই হোক আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নাগরিকত্ব ফিরে পেতে চান ওই বিজ্ঞানী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁর দাদা হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ। জিতেন্দ্রনাথবাবু জানিয়েছেন, ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরামর্শ মতো পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। স্পিকার হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ভাইয়ের এই বিষয়ে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে তা হালকা করার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন তিনি। কারণ, এনআরসি ইস্যুতে ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে অসমের বিজেপি সরকার। প্রসঙ্গত, ইসরোর মিশন মঙ্গলযান প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বিজ্ঞানী জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী। আরও পড়ুন-ব্যর্থতায় মুহ্যমান ইসরোর চেয়াম্যান, জড়িয়ে ধরে সাহস জোগালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কী বললেন তিনি?

হিতেনবাবু জানিয়েছেন ভাই জিতেন্দ্রনাথ গত ২০ বছর ধরে আমেদাবাদের বাসিন্দা। এমনিতে তাঁদের বাড়ি অসমের যোরহাটে। রাজ্যে যখন এনআসি-র তালিকা তৈরির জন্য বাসিন্দাদের কাছে নথি চাওয়া হয়, তখন বাইরে থাকার সুবাদে সেই সংক্রান্ত কোনও কাগজই জমা করতে পারেননি জিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী। হয়তো সেকারণেই এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ল। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা গত ২০ বছর ধরে আহমেদাবাদে থাকি। কিন্তু কোনওভাবে আমার এবং পরিজনদের নাম বাদ পড়েছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে। আমার পরিবারের অনেকে এখনও অসমে থাকেন। জোরহাটে আমাদের জমিজমাও রয়েছে।’