Pakistan Airstrike on Iran: ইরানের অভ্যন্তরে সাতটি স্থানে বিমান হামলা পাকিস্তানের
Pakistan Airstrikes in Iran (Photo Credit: @sentdefender/ X)

বালুচিস্তানে ইরানের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পাকিস্তান ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করেছে বলে পাকিস্তানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বালুচিস্তান প্রদেশে ইরানের হামলার কথা স্বীকার করার একদিন পর এ হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান বুধবার তার ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর জন্য ইরানের নিন্দা জানিয়েছে, যার ফলে বালুচিস্তানে দুই শিশু নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমার 'বিনা প্ররোচনায় লঙ্ঘন' হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম নীতির পরিপন্থী। তাঁর ফলস্বরূপ আগুন ও ক্রোধের জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। জানা গিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে সাতটি স্থানে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। ইরানের সিস্তান বালুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। Pakistan : পাকিস্তানের কোয়েটায় বিস্ফোরন, আহত ৯

মঙ্গলবার ইরানি অভিযানের কথা স্বীকার করে তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, জইশ আল-আদলকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। জইশ আল-আদল বা 'ন্যায়বিচারের সেনাবাহিনী' ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠী, যা মূলত পাকিস্তানের সীমান্ত জুড়ে কাজ করে। ইরানি অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদ ইরানে তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ইরানি রাষ্ট্রদূতকে পাকিস্তানে ফিরে আসতে বাধা দেওয়াসহ কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরানি সামরিক অভিযানের পটভূমিতে বালুচিস্তানে এই ঘটনা ঘটেছে, এই অঞ্চলে এর আগে ইরাক ও সিরিয়ার অবস্থানগুলি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। গতকালই বিমান হামলার পর 'গুরুতর পরিণতির' হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুমতাজ বালুচ (Mumtaz Baloch) আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠিত যোগাযোগ চ্যানেল থাকা সত্ত্বেও এই হামলা হয়েছে। আসলে এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন উভয় দেশই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছে এবং সীমান্তে হামলা চালিয়েছে। প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অভিন্ন সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদ ও তেহরান উভয়ের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।