Christmas In Kolkata: বড়দিনের মৌতাতে কসমোপলিটন কলকাতা, প্রিয় শহরের জনারণ্যে হেঁটে বেড়ায় সান্তা বুড়ো
বড়দিনের কলকাতা (Photo Credit: Facebook)

কলকাতা, ২৫ ডিসেম্বর: বড়দিনের কলকাতা (Kolkata) যেন মহামিলনের যজ্ঞে শামিল হয়েছে। লোকাল ট্রেন থেকে মেট্রো কোথাও তিলধারণের জায়গা নেই। গত কয়েকদিন ধরেই আলোর মালায় রাজ্যবাসীকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল পার্কস্ট্রিট (Park Street)। আর আজ সেখানে শুধু জনারণ্য, একবার মিশে গেলেই আর নিজেকে চিনতে পারবেন না, হলফ করে বলতে পারি। বেলা যত গড়াচ্ছে বড়দিনের আনন্দে ততই ভিড় বাড়ছে পার্কস্ট্রিটে। বরদান মার্কেট থেকে শুরু করে এপিজে স্কুল। গোটা চত্বরটাই কাতারে কাতারে মানুষ। ফুটপাথে সারিবদ্ধ দোকান। ক্রিসমাস ট্রি (Christmas Tree), কসমোপলিটন কলকাতা যেন কলোনিয়াল কলকাতাকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত। মাদার হাউস পেরিয়ে পায়ে পায়ে চলে আসুন, ডানদিকে রাস্তা ক্রস করে সোজা ময়দানে। বিকেলের শেষ রোদ্দুরটুকু চেটেপুটে নিতে সেখানেও হাজির লোকজন।

মা নাবালক ছেলের সঙ্গে ক্রিকেট যুদ্ধে নেমে পড়ছেন, ঠাকুমা একরত্তি নাতনিকে বড়দিনের গল্প শোনাচ্ছেন। লাল সান্তা টুপির সঙ্গে সাদা শাড়ির কম্বিনেশন যেন বিরাট প্রাপ্তির এক ঝলক। সারাদিন টো টো করে ঘুরে একটা দল গোল হয়ে মাঠে বসে পড়ে সালোয়ার থেকে চোরকাঁটা ফেলছে। আর একটা দল মন দিয়ে কমলালেবুর খোসা ছাড়াচ্ছে। ময়দানকে মাঝ বরাবর চিড়ে যাওয়া কংক্রিকেট রাস্তার দুপাশে চেয়ার রয়েছে। সেখানে গা এলিয়ে গল্পে মশগুল প্রেমিক প্রেমিকা, সামনে থেকে মশলামুড়ি হেঁকে যাচ্ছে ফেরিওয়ালা। সেন্টপলস ক্যাথিড্রালের একনিষ্ঠ বাসিন্দা পায়রার দল আজ কেমন যেন শঙ্কিত। এত লোক কোথায় ছিল? সারা বছর যখন নিরুপদ্রবে প্রহর কেটে যায় ,আর আজ যীশুপুজোর সমাগমে দিবানিশি যেন চঞ্চলা। সকাল সকাল না গেলে সামনে থেকেই দেখে ফিরুন। গেটের মুখেই বিরাট আল্পনা, নো এনআরসি, নো সিএএ। উৎসবের শহরেও নান্দনিকতায় ভাষা খুঁজে নিয়েছে প্রতিবাদ। গির্জা চত্বরে সেজেছে ক্রিসমাস ট্রি। চোখকে আরাম দিতে ঢুঁ মারতে পারেন মোহরকুঞ্জ ও লাগোয়া পিস পার্কে। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ব্রিটিশ স্থাপত্যের টানে দেশবিদেশ থেকে সারা বছর এই চত্বরে ভিড় জমান পর্যটকরা। আর ক্রিসমাস ইভ থেকে শুরু করে গোটা জানুয়ারি এই মরশুম চলল। পারলে আলিপুরের চিড়িয়াখানা ঘুরতে যান। আজ সেখানেও অগুন্তি মানুষ। আরও পড়ুন-Kolkata Metro: বড়দিনে উপহার, রাত পর্যন্ত চলবে কলকাতা মেট্রো

রাজনীতির অলিন্দ পেরিয়ে মানুষ যেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালাকে খুঁজতে বেরিয়েছে। দিনগত পাপক্ষয়ের কালযাপন শেষে এ এক অনন্য মুহূর্ত। মেটকাফ হলের আলপনা যখন মননের খোরাক জোগায় তখন ইতিহাসের হাতছানি দিয়ে অপেক্ষা করে জাতীয় গ্রন্থাগার। মন কেমনের গল্প শুনতে চলে আসুন জাদুঘরে। এখানে ইতিহাস কথা বলে। বড়দিনের সন্ধ্যা আসে ফ্রুট কেকের সঙ্গে, মাদকতা ছড়ায় নীল রাত। ভালবাসায় ভেসে যায় স্মৃতির শহর।