ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপে অভ্যস্ত হয়েছি, এবার চলুন ডিজিটাল পেমেন্ট করি, লালকেল্লায় বললেন নরেন্দ্র মোদি
লালকেল্লায় নরেন্দ্র মোদি (Photo Credit: ANI Twitter)

দিল্লি, ১৫ আগস্ট:  ৭৩-তম স্বাধীনতা দিবসে (73 INDEPENDENCE Day) লালকেল্লার (RED FORT) মঞ্চ থেকে দেশবাসীকে ভাল তাকার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। একে একে এল পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, প্লাস্টিক বর্জন, জল সংরক্ষণ, তিনতালাক বিল, জনসংক্যার বিস্ফোরণ রোখার মতো একাধিক প্রসঙ্গ। শুরুতেই বললেন, আমরা এক দেশ, এক সংবিধানের লক্ষ্যে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছি। এই স্বপ্ন দেখেছিলেন সর্দার বল্লভভাই পটেল। সর্দারজির স্বপ্ন পূরণ করেছি আমরা। ভারতের মুসলিম বোনেদের জন্য আইন তৈরি করা হয়েছে। আমরা তাদের অধিকার তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি। তিন তালাক এখন বেআইনি। এর জন্য মুসলিম বোনেরা আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। আমরা ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আসুন স্বচ্ছতার জন্য ডিজিটাল পেমেন্টের পথে হাঁটি। দোকানদাররা আগে দোকানে হোর্ডিং লাগাতেন, আজ নগদ কাল ধার। তা বদলে এ বার ডিজিটাল পেমেন্টের হোর্ডিং লাগান। আরও পড়ুন-Chief of Defence staff: চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ পদ তৈরি করে দেশবাসীকে চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

বললেন, জলের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের নাম ‘জল জীবন মিশন’। ভবিষ্যতে যাতে দেশে জলের সমস্যা না হয়, তার জন্য জল শক্তি মন্ত্রক আর এক ধাপ এগিয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।আমাদের আস্তে আস্তে এগোলে চলবে না। হাই জাম্প লাগাতে হবে। একশ লক্ষ কোটি টাকা আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। সাগরমালা প্রজেক্ট, বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা, সড়ক, বন্দর নির্মাণ করতে হবে। আগে শুধু যদি কাগজে কলমে ঠিক হতো যে কোথাও রেল স্টেশন তৈরি হবে, তা হলে বহু দিন ধরে ওই ঘোষণাতেই খুশি থাকত। এখন আধুনিক রেল স্টেশন কোথাও তৈরি হলে সেখানকার মানুষ প্রশ্ন করে বিমানবন্দর কবে হবে? এখন শুধু পাকা সড়কের কথা মানুষ করে না। প্রশ্ন করে স্যার চার লেনের রাস্তা হবে না ছয় লেনের। এখন শুধু বিদ্যুতের পোল দেখে খুশি হয় না, বলে চব্বিশ ঘন্টা বিদ্যুৎ কবে থেকে চালু হবে। সময় বদলাচ্ছে। তা আমাদের বুঝতে হবে।

জনসংখ্যার বিস্ফোরণ রুখতে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্য সরকার গুলোকেও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে হবে। দুর্নীতি রুখতে সতত প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। ঢিলেমি দিলে চলবে না। প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই অনেক দুর্নীতি পরায়ণ আমলাকে ছুটি দিয়ে দিয়েছি। আমি অফিসারদের সঙ্গে বসে বারবার আলোচনা করি। সাধারণ মানুষের জীবনে সরকারের দখলদারি রয়েছে, তা কি লঘু করতে পারিনা। যাতে মানুষ আরও সহজ ও সাবলীল ভাবে বাঁচতে পারে।সরকারের দাবাও যেমন থাকা উচিত না, তেমনই সংকটের সময়ে অভাবও হওয়া উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় বহু আইন খতম করেছি গত পাঁচ বছরে, ১৪৫০ আইন খতম করেছি। গত দশ সপ্তাহে ৬০ টা আইন খতম করেছি। সত্তর বছরে ভারত দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছেছিল। গত পাঁচ বছরে তা তিন ট্রিলিয়ন ইকোনমিতে পৌঁছেছে। আগামী পাঁচ বছরে তা পাঁচ ট্রিলিয়ন ইকোনমিতে পৌঁছবে। আমরা যখন নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসদমনের কথা বলি তখন গোটা এই অঞ্চলের কথাই ভাবি। ইজ অব লিভিং চাই। ইজ অব ডুইং বিজনেস এ গোটা পৃথিবীর প্রথম পঞ্চাশের মধ্যে পৌঁছতে হবে। ইজ অব লিভিং আমার আসল স্বপ্ন। সাধারণ মানুষকে যেন প্রতিদিনের জীবনে সরকারি কাজ কর্ম নিয়ে ঝঞ্ঝাট না থাকে।