মু্ক্তিপ্রাপ্ত ১৩ জেলবন্দিকে তাদের দেশে ফেরাতে বিমানের টিকিট কেটে দিলেন দুবাইয়ের ভারতীয় ব্যবসায়ী
যোগীন্দর সিংসালারিয়া (Photo Credit: Twitter)

দুবাই, ১৬ অক্টোবর: এবার দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ১৩জনকে দেশে পাঠাতে বিমানের টিকিট কিনলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী। মুক্তিপ্রাপ্ত ওই জেলবন্দিদের কেউ পাকিস্তানি নাগরিক তো কেউ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ বা চিনের। দিলদরিয়া ওই ভারতীয় ব্যবসায়ীর নাম যোগীন্দর সিং সালারিয়া (Joginder Singh Salaria)। দুবাইয়ের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ১৩জনকে বাড়ি ফেরাতে তিনিই উদ্যোগ নিয়েছেন। যোগীন্দর সিং সালারিয়া দুবাইতেই বসবাস করেন। তিনি পেহাল আন্তর্জাতিক পরিবহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। একই সঙ্গে তিনি পেহাল চ্যারিটেবল ট্রাস্টের (PCT Humanity) প্রতিষ্ঠাতাও বটে। দুবাই পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই বিদেশি বন্দিদের মুক্তির পর দেশে ফেরানোর জন্য ১৩টি ওয়ান ওয়ে বিমান টিকিট কেটে দিয়েছেন যোগীন্দর সং সালারিয়া।

খলিজ টাইমসের খবর বলছে, এই বন্দিরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, চিন, উগান্ডা ও ইথিওপিয়ার নাগরিক। এই বন্দিরা সবাই ছোটখাটো অপরাধ করে দুবাইয়ের জেলে বন্দি ছিল। তাদের প্রত্যেকেরই সাজার মেয়াদ ফুরিয়েছে. খুব শিগগির তারা দেশের উদ্দেশে রওনা হবে। যোগীন্দর সিং সালারিয়া জানিয়েছেন, দুর্ভাগ্যবশত এই জেলবন্দিরা কখনওই তাদের দেশে ফেরার বিমান টিকিট কিনতে পারবে না। এদিকে দুবাই পুলিশ বিভিন্ন দাতব্য কাজে কর্মে পেহাল চ্যারিটেবল ট্রাস্টে সঙ্গে কাজ করে থাকে। তার মধ্যে রক্তদান শিবিরও রয়েছে। এখন যৌথ উদ্যোগে এই মুক্তিপ্রাপ্তদের জন্য ১৩টি বিভিন্ন দেশের বিমান টিকিট কাটা হয়েছে। যাতে তারা ফের প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পারে। পুলিশের তরফে আমাদের কাছে জেলবন্দিদের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। বেশিরভাগই এখানে কাজ করতে এসে সংস্থার মালিকদের সঙ্গে ছোটাখাটো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে জেলে গিয়েছে। এই বিদেশ বিভুঁইয়ে এমন কেউ নেই যে তাদের দেশে ফেরার জন্য সাহায্য করতে পারে। আরও পড়ুন-Nobel Peace Prize 2019 Winner: শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি

উল্লেখ্য ১৯৯৩ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে বসবাস (UAE-resident) করছেন যোগীন্দর সিং সালারিয়া। এখানে তাঁর বিরাট ব্যবসা, এখন দুবাই-ই তাঁর কর্মস্থল ও আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। প্রচুর রোজগারের পাশাপাশি দান ধ্যান ও জনকল্যাণ মূলক কাজে নিজেকে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি তাই ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের সমাজকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করে যাবতীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজ শুরু করেন।