Mass Vaccination Against COVID-19: ২০২১-এ করোনার বিরুদ্ধে রাশিয়ায় শুরু স্বেচ্ছায় গণ টীকাকরণ
প্রতিষেধকের প্রতীকী ছবি (Photo Credits: AstraZeneca)

মস্কো, ২৪ নভেম্বর: রাশিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে গণহারে টীকাকরণ (Mass Vaccination Against COVID-19) শুরু হবে আগামী বছর। রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা মঙ্গলবার এই ঘোষণা করলেন। রাশিার করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি সংক্রান্ত খবর দিতে গিয়ে তাতিয়ানা গোলিকোভা বলেন, এই টীকাকরণ হবে স্বেচ্ছাকৃত। করোনাকে নির্মূল করতে রাশিয়া দুটি টীকার নাম ইতিমদ্যেই নথিভুক্ত করেছে। তবে তৃতীয় টীকা তৈরির কাজও চলছে জোর কদমে। তিনি বলেন, “গণ টীকা প্রদানের জন্য ২০২১-কেই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এনিয়ে আমি আবারও বলতে চাই যে, রাশিয়ান ফেডারেশনের অধীনে এই টীকা প্রদান একেবারেই স্বেচ্ছাকৃত হবে। প্রথমে বর্ষীয়ান নাগরিকদের জন্য ১০০ ডোজের স্পুটনিক ভি প্রতিষেধক বাজারে আসবে।”

রাশিয়ায় বয়স্কদের পাশাপাশি চিকিৎসাকর্মী ও শিক্ষকরাই ভ্যাকসিন প্রয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন। “এবার করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে সত্যিই আশা জাগছে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গিয়েছে, যে আসন্ন ভ্যাকসিন মহামারীকে নির্মূল করতে বড় ভূমিকা নেবে।” একথা বললেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম ঘেব্রেয়াসিস (WHO Chief Tedros Adhanom)। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-অ্যাস্ট্রাজেনেকা জুটির তৈরি ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে, ব্রিটেন ও ব্রাজিলের ট্রায়ালে করোনা রুখতে গড়ে ৭০ শতাংশ কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। ফাইনাল পরীক্ষায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা আরও ভাল ফল করলে, সস্তায় সহজলভ্য হবে প্রতিষেধক। তাছাড়া ‘ব্র্যান্ড অক্সফোর্ড’, তাই নিরাপত্তা নিয়ে ভরসা আছে। এরপরেই প্রতিষেধক নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন WHO প্রধান। আরও পড়ুন-WHO Chief Tedros Adhanom: এবার ভ্যাকসিনের প্রয়োগে করোনাভাইরাস দূরীকরণের আশা জাগছে, বললেন WHO প্রধান

এদিকে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অ্যাস্ট্রাজেনেকা অক্সফোর্ড জুটির সাফল্যে খুশি ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, ‘‘দারুণ খবর। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখার আছে। অসাধারণ রেজাল্ট।’’ বিদেশমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে সামনের মাস থেকে সে দেশে টিকাকরণ শুরু করা যেতে পারে। এখনও ভারত, আমেরিকা, কেনিয়া ও জাপানে ট্রায়াল চলছে। ৬০ হাজারের কাছাকাছি স্বেচ্ছাসেবক তাতে অংশ নিয়েছেন। রাশিয়া এর মধ্যে তৃতীয় ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করেছে। এনিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিদেশে প্রতিষেধক রপ্তানির থেকেও দেশের নাগরিকদের টীকাকরণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।