Pope Francis Anti-Nuclear Message: নাগাসাকির মাটিতে দাঁড়িয়েই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বার্তা দিলেন পোপ ফ্রান্সিস
পোপ ফ্রান্সিস (Photo Credits: IANS)

টোকিও, ২৫ নভেম্বর: সালটা ১৯৪৫। হিরোশিমা এবং নাগাসাকি (Hiroshima-Nagasaki) নামে জাপানের (Japan) দুটি শহরের বুকে আছড়ে পড়েছিল পরমাণু বোমা (Nuclear Bombs)। প্রাণ হারিয়েছিলেন লাখ দু'য়েক মানুষ। এখনও যে সেই হামলার ক্ষত সারেনি, একথা কারোরই অজানা নয়। তাই ওইসব মানুষের কষ্ট ভাগ করে নিতে জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস (Pope Francis)। নাগাসাকির বিধ্বস্ত প্রান্তরে দাঁড়িয়ে এক কিশোর। পিঠে বাঁধা রয়েছে ছোট ভাইয়ের মাথা। পরমাণু বোমা কেড়ে নিয়েছে ছোট্ট ভাইটাকে। কিশোরের দুচোখে জল নেই, আছে অপূরণীয় শূন্যতা। মার্কিন মেরিন জো ও'ডোনেলের তোলা এই ছবির সামনে দাঁড়িয়েই নাগাসাকির মাটিতে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বার্তা দিলেন পোপ ফ্রান্সিস। বললেন পরমাণু অস্ত্রের আস্ফালন আদতে সুরক্ষার ভ্রান্ত ধারণা ছাড়া কিছুই নয়। অযথা আস্ফালন নয়, দেশের মানুষের কথা ভেবে তাই প্রয়োজন পরমাণু অস্ত্রমুক্ত এক বিশ্ব!

ফ্রান্সিসের আগে ১৯৮১ সালে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পা দিয়েছিলেন দ্বিতীয় জন পল। গত সপ্তাহের শনিবার (Saturday) জাপান পৌঁছোন পোপ ফ্রান্সিস। তারপর পৌঁছে যান হিরোশিমা-নাগাসাকির পিস মেমোরিয়াল পার্কে। সেখান থেকেই সেই ভয়ঙ্কর অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই জায়গা বোমার আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যু এবং ধ্বংসের ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়েছিল। নিস্তব্ধতার মধ্যেও এখনও আমাদের কানে ভেসে আসে নিহতদের আর্তনাদ।’’ পরমাণু শক্তির ব্যবহারকে ‘অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তাঁর উক্তি, ‘‘এটা কেবল মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়। আমাদের সকলের একসঙ্গে বাস করার বিষয়েও প্রশ্নচিহ্ন তোলে পরমাণু অস্ত্রের প্রসার।’’ আরও পড়ুন: New Marriage Rule For Indonesian Couples: বিয়ে করতে গেলে এবার পাশ করতে হবে প্রি ওয়েডিং কোর্স! নয়া নিয়ম আনতে চলেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার

নাগাসাকির স্মৃতিসৌধে ফুল (Flower) রেখে ৮২ বছরের যন্ত্রণাদীর্ণ কণ্ঠে এদিন ফ্রান্সিসের কণ্ঠে শোনা গেল, 'এই জায়গাটাই আমাদের বুঝিয়ে দেয়, আমরা একে অপরের উপর কতটা যন্ত্রণা চাপিয়ে দিই। যে বিশ্বে হাজার হাজার শিশু ও পরিবার অমানবিক পরিস্থিতিতে বাস করছে, সেখানে বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একথা মাথায় রেখে মানবিকতা ও পরিবেশ রক্ষার খাতিরে অন্তত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে রাশ টানার সময় এসেছে। পরমাণু শক্তি যে ভয়-অবিশ্বাসের আবহ তৈরি করেছে, তা মুছে ফেলার আশু প্রয়োজন রয়েছে।'