শীর্ষ আদালতের রায়, অবশেষে কাশ্মীরের মাটিতে পা রাখতে পারবেন গুলাম নবি আজাদ
গুলাম নবি আজাদ(Photo Credit: IANS)

দিল্লি, ১৬ সেপ্টেম্বর:   অবশেষে জম্মু-কাশ্মীরে যাওয়ার আইনি ছাড়পত্র পেলেন প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবি আজাদ। সুপ্রিমকোর্ট আজদাকে এদিন তাঁরই করা আবেদনের ভিত্তিতে এই ছাড়পত্র দেয়। সেখানে স্পষ্টই বলা আছে, জম্মু ও  কাশ্মীরে গিয়ে গুলাম নবি আজাদ কোথাও কোনওরকম বক্তব্য রাখতে পারবেন না, জন সমাবেশ করার চেষ্টা করবেন না । মূলত, শ্রীনগর, অনন্তনাগ, জম্মু ও বারামুলা জেলাতেই যেতে পারবেন গুলাম নবি আজাদ। এর বাইরে উপত্যকার অন্য কোথাও যাওয়ার ছাড়পত্র তাঁকে দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। ৩৭০-র ধারা বিলুপ্তির পর নিজের রাজ্যে প্রবেশ করতে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছেন এই কংগ্রেস সাংসদ। পরে তাঁর আবেদনের ভিত্তি প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিল।

উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আগস্টের শুরু থেকেই রাজধানীতে রয়েছেন। চেষ্টা করেও উপত্যকায় ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির পর সেখানে ফিরতে পারেননি তিনি। একবার শ্রীনগর এটারপোর্ট থেকে তাকে ফেরানো হয়েছে। আর একবার জম্মু এয়ারপোর্ট থেকে। এদিকে গুলাম নবি আজাদারে গোটা পরিবার স্বজন সবাই কাশ্মীরে থাকেন। সেখানে ৩৭০ ধারা (Article 370) বিলুপ্তিকে কেন্দ্র করে সমস্ত কমিউনিকেশন ব্ল্যাক আউট ছিল দীর্ঘ দিন। রাজনৈতিক নেতার গৃহবন্দি ও পরে গ্রেপ্তার হন। হয়তো গুলাম নবি আজাদ (Ghulam Nabi Azad) নিজে সশরীরে সেখানে উপস্থিত থাকলে তাঁর অবস্থাও যে বাকিদের মতো হত তা ভালই অনুমান করা যায়। যাইহোর পরিবার পরিজনের ভালমন্দের খোঁজ খবর করতেই কাশ্মীরে যেতে চান। সেই অনুমতি আদায়ের জন্যই দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গুলাম নবি আজাদ। তবে তিনি একা নন, ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পর কাশ্মীরে যেতে চেয়ে রাহুল গান্ধী-সহ (Rahul Gandhi) বেশ কিছু বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকে শ্রীনগর এয়ারপোর্ট থেকে ফিরতে হয়েছে। আরও পড়ুন-‘প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশেও এনআরসি হবে, অসমের সিদ্ধান্ত সাহসী পদক্ষেপ’: যোগী আদিত্যনাথ

গত ৫ সেপ্টেম্বর এই শীর্ষ আদালতের (Supreme Court  ) অনুমতিতেই মাকে দেখার সুযোগ পান জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা। ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির আগের দিন থেকেই সরকারি বন্দি হিসেবে দিন কাটছে মেহবুবা মুফতির। তবে ইলতিজা একান্তে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও তিনি যেখানে সেখানে যেতে পারবেন না তার জন্য সেনার অনুমতি লাগবে। গত ৫  আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া হয়। তারপর থেকেই কড়া নিরাপত্তার চাজরে মুড়েছে গোটা উপত্যকা।