Aatish Taseer loses OCI status: 'ভারতে বিভেদের মূলে প্রধানমন্ত্রী', টাইম ম্যাগাজিনে এই প্রবন্ধ লিখে দিল্লির রোষে লেখক আতিশ তাসীর, খোয়ালেন ওসিআই তকমা
আতিশ তাসীর (Photo Credit: Twitter)

নতুন দিল্লি, ৮ নভেম্বর: “ইন্ডিয়াস ডিভাইডার ইন চিফ” (“India’s Divider in Chief”) নরেন্দ্র মোদিকে টাইম ম্যাগাজিনে (Time Magazine) এই নামেই অভিহিত করেছেন প্রখ্যাত লেখক আতিশ তাসীর (Aatish Taseer)। ভারতকে বিভেদে জর্জরিত করার পিছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি।  সংবাদ মাধ্যম timesofindia-র প্রকাশ, এবার এই লেখকের ওসিআই তকমা বাতিল করে দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’-র (Overseas Citizenship of India) কার্ড ছিল আতিশ তাসীরের কাছে। এমনিতে ব্রিটেনে জন্ম তাসীরের মা ভারতীয় সাংবাদিক তভলিন সিং (Indian journalist Tavleen Singh)। বাবা সলমন তাসীর (Pakistani politician Salmaan Taseer) পাকিস্তানে পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। ২০১১-তে নিজের দেহরক্ষীর হাতে খুন হন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, আতিশ তাসীরের বাবা যে পাকিস্তানি নাগরিক (Pakistani origin) তা তিনি গোপন রেখেছিলেন। তাই তাঁর ওসিআই কার্ড (OCI status) বাতিল করা হল।

এদিকে একজন লেখকের প্রবন্ধে যেহেতু ভারতে বিভেদের রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নাম এসেছে, তাই তাঁর ওসিআই কার্ড বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই আলোচনায় যখন দিল্লি সরগরম, তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্রের দাবি, নিশ্চই এটা একটা বড় কারণ। কেউ ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’র কার্ড পকেটে নিয়ে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীকেই এমন একটা স্পর্শকাতর ইস্যুতে অভিযুক্ত মনে করবেন। তাতো হতে পারে না। তাই তাঁর ওসিআই কার্ড বাতিল হয়ে গিয়েছে। তবে তাসীরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কেননা ওসিআই কার্ডের কিছু নিয়মাবলী রয়েছে। যে ব্যক্তির বাবা বা দাদ পাকিস্তানের নাগরিক তিনি কখনওই ভারত সরকারের তরফে ওসিআই কার্ড পেতে পারেন না। তাঁকে যখন এই তকমা দেওয়া হচ্ছে তিনি কিন্তু সেই সময় পিতৃ পরিচয়ের এই প্রসঙ্গ গোপন করে গিয়েছিলেন। পরে তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় সরকার সবটাই জানাতে পেরেছে। গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো জেঁকে বসেছে গত মে মাসে টাইম ম্যাগাজিনে আতিশ তাসীরের প্রবন্ধ, “ইন্ডিয়াস ডিভাইডার ইন চিফ”। তাইতো তাঁর কার্ড বাতিল হল। তবে এই ওসিআই তকমা বাতিলের নেপথ্যে বেশকিছু নিয়মাবলী রয়েছে। তাতে দেখা যায়, কার্ড প্রাপক কেন তা বাতিল হল জানতে কেন্দ্রের কাছে আবেদন করতে পারেন। এজন্য ২১ দিনের একটি সময়সীমাও রয়েছে। আরও পড়ুন-Ayodhya Verdict: আসন্ন অযোধ্যা মামলার রায়, এই প্রথম পাথর খোদাইয়ের কাজ বন্ধ করল বিশ্বহিন্দু পরিষদ

বলা বাহুল্য, এই সময়সীমার মধ্যে এমন কোনও আবেদন জমা পড়েনি। তবে তাসীর পাল্টা মেল করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দপ্তরে। তাঁর বক্তব্য ২১ দিনের সময়সীমা সরকার তাঁকে দেয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য জবাব চাওয়া হয়। মনস্থির করতেই তো এর থেকে বেশি সময় চলে যায়, এত অল্প সময়ে এমন একটি জটিল বিষয়ের উত্তর কী করে প্রস্তুত হবে। পাল্টা প্রশ্ন করেছেন ওই লেখক।