Acid Rains: শ্রীলঙ্কায় অ্যাসিড বৃষ্টির সতর্কবার্তা, কেন জানেন!

কলম্বো, ২৯ মে: যে কোনও সময় নেমে আসতে পারে অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rains)। করোনার প্রকোপে কোণঠাসা শ্রীলঙ্কায় নতুন বিপদ অ্যাসিড বৃষ্টি। শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী অঞ্চলে অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার সামুদ্রিক  পরিবেশ রক্ষা দফতর (MEPA) থেকে বলা হয়েছে, বাইরের বাইরে বের হোয়ার ঝুঁকি নেবেন না। ঘরের বাইরে থাকা জিনিস, গাড়ি-বাইক জাতীয় জিনিস কিছুতেই খোলা রাখবেন না, ধাতবজাতীয় জিনিস দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন। আরও পড়ুন: Petrol-Diesel Price Hike: ফের ১০০ পার পেট্রল-ডিজেলের দাম, নিয়ম করে মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল মধ্যবিত্ত

কিন্তু শ্রীলঙ্কায় হঠাৎ অ্যাসিড বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হল কেন? আসলে গত ২০ মে কলম্বো বন্দরে সিঙ্গাপুরের এক জাহাজে ( X-Press Pearl) ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, রাসায়নিক বোঝাই জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তৈরি হয়। জাহাজটিতে ১৪৮৬টি কন্টেনার ছিল, যার মধ্যে ২৫ টন নাইট্রিক সহ নানা ধরনের রাসায়নিক ও কসমেটিক ছিল। গত ১৫ মে ভারতের গুজরাটের হাজিরা বন্দর থেকে ছেড়েছিল এই জাহাজটি।

বৃষ্টির জলে অ্যাসিডের পরিমান বেড়ে গেলে অ্যাসিড বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। সাধারণত বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও ভাসমান ধূলিকনাগুলি জলের সঙ্গে আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সালফার ডাই অক্সাইডে পরিণত করে। ঠিক এই অবস্থাই তৈরি হয় জাহাজে আগুন লাগার কারণে। জাহাজটি ধীর ধীরে ডুবতে শুরু করে। যদিও সেটাকে উদ্ধারের কাজ চলছে। এত ভয়বাহ আগুন জাহাজটি থেকে বের হয়, যে সেটি পুরোপুরি নেভাতে সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায়। এতে পরিবেশের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যায়। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানীর দহন, সালফার আকরিক থেকে সালফার নিষ্কাশন ও সিসা, দস্তা ও তামা নিষ্কাশনের চুল্লি থেকে সালফার ডাই অক্সাইড বাতাসে মিশে আবার বিভিন্ন নাইট্রোজেন ও সালফার ঘটিত অক্সাইড আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড সৃষ্টি করে। এইসবগুলির কারণেই জাহাজে ভয়াবহ আগুন থেকে শ্রীলঙ্কায় অ্যাডিস বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাহাজের ২৫জন ক্র মেম্বারদের উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজে দুই ভারতীয় ছিলেন। তাঁরা এখন আশঙ্কাজন অবস্থায় কলম্বোর হাসপাতালে ভর্তি। তাদের মধ্যে এতজন আবার করোনায় আক্রান্তও হয়েছেন। জাহাজটিতে ভারতীয় ছাড়াও ফিলিপিন্স, চাইনিজ, রাশিয়ান জাহাজ কর্মীও ছিলেন।