Kolkata ATM Fraud: এটিএম জালিয়াতির শিকার কলকাতার বৃদ্ধ, টাকা ডেবিট হল দিল্লিতে
এটিএম-এর প্রতীকী ছবি(File Photo)

কলকাতা, ৪ ডিসেম্বর: এবার কলকাতার বাসিন্দার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হল। প্রতারিত গ্রাহকরা দেখলেন তাঁরা কলকাতায় থাকলেও দক্ষিণ দিল্লির গ্রেটার কৈলাস, লাজপত নগরের বিভিন্ন এটিএম (ATM) থেকে সেই টাকা তোলা হয়েছে। টাকা তোলার পরই মেসেজ পেয়েছেন গ্রাহক। মেসেজ দেখেই মাথায় হাত। প্রতারিতদের দলে রয়েছেন মূলত পেনশনভোগীরা (pensioners)। নিজেদের আর্থিক সম্বলের ওই একটা মাত্র জায়গা সেখানে সম্প্রতি টাকা বেশ কিছু জমা করেছিলেন। ঠিক তার পরেপরেই সেই টাকা কেউ তুলে নিল। এঁদের কারোর অ্যাকাউন্ট রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে, কারোর বা কর্পোরেট ব্যাংকে। প্রত্যেকেরই বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর-সহ আশপাশের এলাকায়। ইতিমধ্যেই প্রত্যেকেই যাদবপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাতে জানিয়েছেন, টাকা ডেবিট হওয়ার পর ব্যাংকের তরফে মেসেজ আসতেই বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগকারীদের প্রত্যেকেই জানিয়েছেন যাদপুরের বেশ কয়েকটি এটিএম থেকেই সম্প্রতি তাঁরা টাকা তুলেছেন। তদন্তকারী দলের মত, ওই এটিএমগুলিতে প্রতারকরা স্কিমার লাগিয়ে রেখেছে। তাতেই গ্রাহকের কার্ডের পাসওয়ার্ড কপি হয়েছে। এই পদ্ধতিতেই কলকাতার গ্রাহকের টাকা হাতানো হয়েছে দিল্লি থেকে। তবে পাসওয়ার্ড বদল বা ওই সংক্রান্ত কোনও কল তাঁদের মোবাইলে আসানি বলেই জানিয়েছেন প্রতারিতরা। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলিধর শর্মা (Murli Dhar,) মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত যাদবপুরেই অভিযোগ জমা পড়েছে ৪৪টি। ১৩টি জমা পড়েছে চারু মার্কেট থানায়। এই দু’টি থানা এলাকা মিলে প্রায় ১২ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সমস্ত ক্ষেত্রেই টাকা তোলা হয়েছে দক্ষিণ দিল্লির কয়েকটি এটিএম থেকে। সেখানে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে কলকাতা পুলিশের দল। ওই এটিএমগুলির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে মিলেছে এক প্রতারকের মুখ ঢাকা ছবি। আরও পড়ুন-CM Mamata Banerjee On NRC: ‘পশ্চিমবঙ্গে কখনওই এনআরসি হবে না, আমরা অনুমতি দেব না’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তবে পুলিশের মতে প্রতারকরা রোমানীয় (Romanian nationals) বা তুর্কি হতে পারে। লালবাজার সূত্রে খবর, যে দু’টি এটিএম কিয়স্ক প্রতারকরা ব্যবহার করেছিল ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে গ্রাহকদের তথ্য চুরি করতে, সেগুলি একই ব্যাঙ্কের। একটি যাদবপুরের সুলেখায়, অন্যটি টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ওই দু’টি এটিএমেই ‘অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস’ বসানো হয় এ বছরের জুন মাসে। চিপ কার্ড প্রযুক্তিও বসানো হয় ওই সময়েই। কারণ, তার আগে এপ্রিল মাসে ওই দু’টি এটিএমেই ‘স্কিমিং ডিভাইস’ পাওয়া গিয়েছিল।