Kolkata: শহরে কাশ্মীরি  চিকিৎসককে ব্ল্যাকমেল, পোশাক খুলিয়ে তোলা হল ছবি; ১০ লক্ষ টাকা না দিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি প্রকাশের হুমকি নকল রোগিণীর
চিকিৎসকের প্রতীকী ছবি (Photo Credits: Public Domain Pics | Representational Image)

কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর:  এক কাশ্মীরি চিকিৎসককে (Kashmiri doctor) ব্ল্যাকমেল করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ (blackmail and extort money) উঠল শহরে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই কাশ্মীরি চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার বাসিন্দা। এখানে তিনি রীতিমতো প্রাকটিস করেন। হাতযশের কারণে রোগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। শুক্রবার ডাক্তারবাবুর কাছে একটি ফোন আসে। এক রোগিনী বুকের ব্যথায় মারাত্মক কাতরাচ্ছেন। তাঁর বাড়ি দমদমে। সেসময় হাতের কাছে অন্য কোনও চিকিৎসকে না পেয়েই তাঁকে ফোন করা হয়েছে। তিনি যেন একবার দমদমে রোগিনীর বাড়িতে এসে তাঁকে পরীক্ষা করে যান। চিকিৎসা যখন পেশা তখন না বলতে পারেননি ওই ডাক্তারবাবু।

তিনি রোগিণীর বাড়িতে পৌঁছাতেই শুরু হয় চমক। ডাক্তারবাবু রোগিণীর প্রেস্ক্রিপশন যখন পরীক্ষা করছেন ঠিক সেসময় আচমকাই ঘটে ঘটনা। অভিযোগ, প্রথমেই বিছানা থেকে উঠে ওই চিকিৎসকে জড়িয়ে ধরেন রোগিণী। নাটকীয়ভাবে ততক্ষণে ঘরে ঢুকে পড়েছে তিনজন। একজনের গায়ে আবার পুলিশের উর্দি। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই চিকিৎসককে তাঁর পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এই অবস্থায় মহিলার সঙ্গে হতভম্ব ডাক্তারবাবুর বেশ কয়েকটি ছবি তোলা হয়। তারপর সোজাসুজি ব্ল্যাকমেলিং শুরু। সাফ জানানো হয়, লাখ দশেক টাকা না দিলে ওই ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে ডাক্তারবাবুর শুধু সম্মানহানি হবে তাই নয়। জেলেও যেতে হতে পারে। আতান্তরে পড়েও ওই চিকিৎসক মাথা ঠাণ্ডা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, সঙ্গে করে তো কেউ এত বড় অংকের টাকা নিয়ে ঘোরেন না। আপনারা যদি আমার বাড়িতে আসেন তাহলে প্রাপ্য মিটিয়ে দেব। সেই সময় ডাক্তারবাবুর সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন চলে আসে। আরও পড়ুন-Kolkata: পুলিশকর্মীর বাড়িতে ভয়াবহ আগুন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সস্ত্রীক মুচিপাড়া থানার এএসআই

বাড়িতে এসেই ৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর গয়না, যার আর্থিক মূল্য ৫ লক্ষ। তার পুরোটাই ঠগদের হাতে তুলে দেন চিকিৎসক। একসঙ্গে প্রাপ্যের অধিক পেয়ে বিহ্বল হয়ে পড়ে অভিযুক্তরা। এই সুযোগটাই কাজে লাগান ওই চিকিৎসক। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করেন। পুলিশ একেবারে হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে বাকি দুজনও গ্রেপ্তার হয়। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একজনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে উর্দি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।