Delhi Air Pollution: দূষণের কবলে রাজধানী প্রাণে বাঁচতে বাসিন্দারা রাজ্য ছাড়ছেন, ফের শুরু গাড়ির জোড়-বিজোড় নীতি
দূষণে দিল্লি (Photo Credit: File Photo)

নতুন দিল্লি, ৪ নভেম্বর: সকাল হতে না হতেই ধোঁয়ার চাদরে (air pollution) আপাদমস্তক মুড়েছে রাজধানী দিল্লি। মুখে মুখোশ ছাড়া বাসিন্দাদের পথে বেরনোই দায় হয়ে পড়েছে। বৃদ্ধ বৃদ্ধা ও শিশুদের অবস্থা আরওই খারাপ। দৃশ্যমানতা এতটাই কম যে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলিতে চার চাকার গতি রুদ্ধ হবে। সামনে দু’তিন মিটারের মধ্যেও কিছু দেখা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই দিল্লি উপকণ্ঠে (Delhi-NCR) দূষণকালীন জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। সরকারের নির্দেশ আগামী মঙ্গলবার অর্থৎ কাল পর্যন্ত সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ থাকছে। এদিকে দিল্লি বিমানবন্দর, সাউথ ব্লক, নর্থ ব্লক, লালকেল্লা-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে রক্ষীদের জন্য কয়েক হাজার মাস্ক দিয়েছে সিআইএসএফ। শহর জুড়ে একাধিক হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের আইসিইউতে স্থানান্তরিত করতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দূষণ রোধে নিয়ম না মানায় গত কাল ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা নয়ডা ও গ্রেটার নয়ডায়। জমি বাড়ির দুই কারবারিকে ৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। মোটৈমুটি দীপাবলির পর থেকেই দিল্লিতে দূষণের মাত্রা হু হু করে বেড়েছে। বাধ্য হয়েই গাড়ির জোড় বিজোড় নীতি (odd-even) সোমবার থেকে চালু হচ্ছে, চলবে আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত। এরমধ্যে ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ ও নয়ডায় দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক সীমায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সাময়িক সময়ের জন্য রাজধানীর ১৬ শতাংশ বাসিন্দা অন্যত্র চলে যেতে চাইছেন। আর এই দূষণের প্রকোপ থেকে বাঁচতে ৪০ শতাংশ বাসিন্দা পাকাপাকিভাবে রাজধানী ছাড়তে চান। তবে পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন আশার খবর এই যে, তাঠিক করতে রাজধানীতে আসতে চলেছে বৃষ্টি। আগামী সাত ও আট নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মহার প্রভাবে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও দিল্লিতে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরও পড়ুন-Delhi Air Pollution: দূষণে ঢেকেছে রাজধানী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত স্কুল কলেজে ছুটি ঘোষণা কেজরিওয়ালের

ধোঁয়াশার কারণে গতকাল  দিল্লি বিমানবন্দরে নামার আগে ৩৭টি বিমানের পথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এরমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার ১২টি বিমান ছিল। এই অবস্থায় আজ দিল্লির দূষণ নিয়ে পরিবেশ দূষণ (প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি রিপোর্ট শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি সংলগ্ন রাজ্যগুলিকে আগাছা পোড়ানো, কারখানা থেকে বিষাক্ত বর্জ্য নির্গমন ও সাময়িক ভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।