কলকাতা, ১৬ এপ্রিল: 'আমি উসকানিমূলক কথা বলতে এখানে আসিনি। সর্ব ধর্ম সম্মন্বয়ের কথা বলছি।' নেতাজি ইন্ডোরে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বুদ্ধিজীবীদের সম্মেলনে হাজির হয়ে এমনই মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি আরও বলেন, আমার যেমন ক্ষমতা নেই কোনও ব্যক্তির সম্পত্তি অধিকার করার। তেমনি কোনও দল বা সরকারের ক্ষমতা নেই কোনও ব্যক্তি বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আইন দখল করার।' ওয়াকফ আইন নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এমনই জানান মখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেক ওয়াকফ বোর্ডের (Waqf Law) সম্পত্তিতে যেমন হিন্দুদের দান রয়েছে। তেমনি অনেক বোর্ডে হিন্দুরাও রয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (West Bengal CM)।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে কটা ছেলেকে চাকরি দিয়েছেন? এসব না করে দাঙ্গা বাধিয়ে দিচ্ছেন। ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমার যা বলার সামনে থেকে বলি। পিছন থেকে বলি না বলে মন্তব্য করেন মমতা।
এরপরই সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধেও তোপ দাগতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad Violence) ঘটনায় যে ৮টি ভিডিয়ো এবং ছবি বাংলার বলে প্রকাশ করা হয়, তা ফেক। বাইরের রাজ্যের ছবি দেখিয়ে তা বাংলার বলে দাবি করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: Murshidabad Violence: 'মুর্শিদাবাদের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী চুপ কেন?', প্রশ্ন আদিত্যনাথের
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কথা, 'আমরা সর্বধর্ম সম্মন্বয়ে বিশ্বাস করি। রামকৃষ্ণকে বিশ্বাস করি। রবীন্দ্র, নজরুলকে বিশ্বাস করি। যাঁরা নবজাগরণের জন্ম দিয়েছেন। হাত জোড় করে বলছি, অশান্তি করতে চাইলে, তাঁকে বাতিল করুন। দুর্গা পুজো থেকে সরস্বতী পুজো, বাংলায় সব হয়। অথছ, বিজেপি বলে, আমরা নাকি পুজো করতে দি না।'
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের কী হল, তা এখনও পর্যন্ত কেউ জানেন না। যা লজ্জার বিষয়। গান্ধীজিও এক সময় কলকাতায় গান্ধী ভবনে ছিলেন, যা তে কোনও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ না হয়, সে বিষয়ে। রবীন্দ্রনাথও বাংলার মাটি, বাংলার জল গেয়েছিলেন। সব ধর্মের মানুষ দেশকে স্বাধীন করার জন্য লড়েন। আমাদের সংবিধানে রয়েছে, যে কোনও ধর্মের মানুষ তা ঁদের সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করতে পারবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটানের সীমান্ত এলাকা রয়েছে বাংলায়। ইউনুসের সঙ্গে মোদী গোপণ বৈঠক করুন, ঠিক আছে। তাতে যদি দেশের উপহার হয় তো ভাল বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে যদি অনুপ্রবেশ হয়, তাহলে বিএসএফ কেন তা থামাতে পারছে না বলে প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে আসছে। ওদের আগে থেকেই গন্ডগোল পাকানোর পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা এখন কার্যকর করতে চাওয়া হচ্ছে বলে উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।