Angel Nujhat or Angel Nuzhat: গত কয়েকদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে 'অ্যাঞ্জেল নুজহাত ১২ মিনিটের ভাইরাল ভিডিও' (Angel Nuzhat 12-minute viral video) সংক্রান্ত লিঙ্কের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আকর্ষণীয় থাম্বনেইল এবং লিঙ্কের মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি জনৈক টিকটকার বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবশালীর ব্যক্তিগত ভিডিও। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইন্টারনেটে এমন কোনো ভিডিওর অস্তিত্ব নেই। বরং এই পুরো বিষয়টিই ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর একটি ডিজিটাল ফাঁদ।

স্ক্যামের নেপথ্যে 'ঘোস্ট ফাইল' প্রযুক্তি

সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, এটি মূলত একটি 'ঘোস্ট ফাইল' (Ghost File) স্ক্যাম। যখনই কোনো ব্যবহারকারী কৌতূহলবশত ভিডিওটি দেখার জন্য লিঙ্কে ক্লিক করেন, তখন কোনো ভিডিও প্লে হওয়ার পরিবর্তে একটি ক্ষতিকারক ফাইল বা 'ম্যালওয়্যার' (Malware) স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনে বা কম্পিউটারে ডাউনলোড হয়ে যায়। এই ফাইলগুলো ডিভাইসের ব্যাকগ্রাউন্ডে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে সাধারণ চোখে তা ধরা পড়ে না।

কীভাবে কাজ করে এই ডিজিটাল ফাঁদ?

প্রতারকরা সাধারণত ১২ মিনিট বা ১৯ মিনিটের মতো সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে ভিডিওর লিঙ্ক ছড়ায়, যাতে মানুষ এটিকে আসল বলে বিশ্বাস করে। এই লিঙ্কে ক্লিক করার ফলে যা হতে পারে:

ব্যক্তিগত তথ্য চুরি: ফোনের গ্যালারি, কন্টাক্ট এবং ব্যক্তিগত মেসেজ হ্যাকারদের কব্জায় চলে যেতে পারে।

আর্থিক জালিয়াতি: ডিভাইসে থাকা ব্যাংকিং অ্যাপের তথ্য, ওটিপি (OTP) এবং ইউপিআই (UPI) পিন চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হারানো: রিমোট এক্সেস টুলের মাধ্যমে হ্যাকাররা দূর থেকে আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

পরিচয় বিভ্রাট ও গুজব

তদন্তে জানা গেছে, অ্যাঞ্জেল নুজহাত নামে একজন জনপ্রিয় টিকটকার বাস্তবে থাকলেও, তার কোনো ব্যক্তিগত ভিডিওর সাথে এই লিঙ্কের সম্পর্ক নেই। সাইবার অপরাধীরা কেবল তার নাম ও জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এর আগে আরোরা মিম (Arohi Mim) বা আলিনা আমিরের (Alina Amir) মতো ব্যক্তিত্বদের নাম ব্যবহার করেও একই ধরনের স্ক্যাম চালানো হয়েছিল।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের সন্দেহজনক পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না: বিশেষ করে সেনসেশনাল বা 'লিঙ্কড ভিডিও' লেখা কোনো ফরোয়ার্ড করা মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।

টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন: আপনার সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখুন।

অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার: ডিভাইসে বিশ্বস্ত অ্যান্টি-ভাইরাস বা সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন যা ক্ষতিকারক লিঙ্ক শনাক্ত করতে পারে।

শেয়ার করবেন না: আইনগতভাবে এই ধরনের ক্ষতিকারক লিঙ্ক বা অপ্রমাণিত তথ্য অন্যের কাছে পাঠানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।