২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় লটারি খেলা 'কলকাতা ফটাফট' এক নতুন আইনি ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ২০২৫ সালে প্রবর্তিত 'প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং অ্যাক্ট' (PROGA) কার্যকর হওয়ার পর থেকে এই ধরণের বাজি বা লটারি জাতীয় খেলার ওপর নজরদারি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই খেলা এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাম-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়লেও, এর আইনি বৈধতা ও সুরক্ষার প্রশ্নটি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন আইন ও আইনি অবস্থান

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অনলাইন গেমিং এবং বাজি ধরার বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, যে কোনও খেলায় যেখানে টাকা বিনিয়োগ করে বেশি টাকা জেতার আশা করা হয় (Real Money Gaming), তা কঠোর নিয়ন্ত্রণের অধীনে আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত লটারি বৈধ হলেও, কলকাতা ফটাফটের মতো বেসরকারি বা অসংগঠিতভাবে পরিচালিত গেসিং গেমগুলোর ক্ষেত্রে আইনি ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। বিশেষ করে যে সকল প্ল্যাটফর্ম লাইসেন্সবিহীনভাবে অনলাইনে লেনদেন চালাচ্ছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল অনলাইন গেমিং কমিশন।

খেলার পদ্ধতি ও সময়সূচী

কলকাতা ফটাফট মূলত একটি সংখ্যার খেলা যা প্রতিদিন আটবার (রবিবারে চারবার) আয়োজিত হয়। প্রতিটি রাউন্ডকে স্থানীয়ভাবে 'বাজি' বলা হয়। প্রথম বাজি শুরু হয় সকাল ১০টা ২০ মিনিটে এবং শেষ বাজি ঘোষিত হয় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত ১ থেকে ৮ পর্যন্ত সংখ্যার ওপর বাজি ধরেন। অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এর ফলাফল দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও, সাইবার বিশেষজ্ঞরা এই ধরণের অনিবন্ধিত পোর্টালে ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংক ডিটেইলস শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক করেছেন।

আর্থিক ও সামাজিক ঝুঁকি

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা ফটাফটের মতো খেলায় জেতার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে খুবই কম। অনেকেই দ্রুত বড়লোক হওয়ার আশায় এই খেলায় জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত বিশাল ঋণের জালে জড়িয়ে যান। ২০২৬ সালের সাইবার ক্রাইম রিপোর্টে দেখা গেছে, কলকাতা ফটাফটের নাম করে অনেক ভুয়ো অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের ইউপিআই (UPI) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সচেতনতা ও প্রতিকার

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারংবার জানানো হয়েছে যে, লটারি বা বাজি ধরা কখনই আয়ের উৎস হতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের আবগারি ও লটারি বিভাগ সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত লটারিতেই অংশগ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনও অ্যাপ ব্যবহারের আগে তার লাইসেন্স যাচাই করা জরুরি।