কলকাতা: বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন নতুন সাজে সেজে ওঠে, তখনই বাঙালির দোরগোড়ায় কড়া নাড়ে রঙের উৎসব দোলযাত্রা। ২০২৬ সালে দোলযাত্রা বা দোল পূর্ণিমা পালিত হবে আগামী ৩ মার্চ, মঙ্গলবার (বাংলা পঞ্জিকা মতে ১৮ ফাল্গুন)। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তে এবং শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবে এই দিনটি বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ভারতের অন্যান্য প্রান্তে এর পরদিন অর্থাৎ ৪ মার্চ বুধবার হোলি বা রঙের খেলা উদযাপিত হবে।
পূর্ণিমা তিথি ও শুভক্ষণ
পঞ্জিকা ও জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২ মার্চ (সোমবার) বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে। এই তিথি চলবে ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা ৮ মিনিট পর্যন্ত। দোলযাত্রার প্রধান পূজা ও আচারগুলি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ৩ মার্চ দুপুর ১২টা ১৭ মিনিট থেকে ১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত সময়কালটি 'অমৃত মুহূর্ত' হিসেবে অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করা হচ্ছে।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি
বাঙালির কাছে দোল পূর্ণিমার গুরুত্ব আরও গভীর, কারণ এই পুণ্য তিথিতেই নদীয়ার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ তাঁর আবির্ভাবের ৫৪০তম বর্ষপূর্তি পালিত হবে। মায়াপুর এবং নবদ্বীপের ইসকন মন্দিরে এই দিনটি 'গৌর পূর্ণিমা' হিসেবে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়, যেখানে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন।
নেড়াপোড়া বা চাঁচর উৎসব
দোল উৎসবের আগের দিন অর্থাৎ ২ মার্চ সন্ধ্যায় পালিত হবে 'নেড়াপোড়া' বা 'চাঁচর'। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে খড় ও শুকনো কাঠ দিয়ে অগ্নিকুণ্ড তৈরি করে তা দাহ করা হয়। উত্তর ভারতে এটিই 'হোলিকা দহন' নামে পরিচিত। এই বছর ২ মার্চ সূর্যাস্তের পর থেকেই নেড়াপোড়ার শুভ সময় শুরু হবে।
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য
দোলযাত্রা মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি এবং বসন্তের আগমনকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। এই দিন সকালে আবির দিয়ে রাধা-কৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহ পূজা করা হয় এবং পরে একে অপরকে আবির মাখিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর উদ্যোগে আয়োজিত বসন্ত উৎসব এ বছরও পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে।