Kasba Gang Rape: আইন কলেজ ক্যাম্পাসে গণধর্ষণের সময় মনোজিত মিশ্রর বন্ধুরা কেন ভিডিয়ো রেকর্ড করে? কী পরিকল্পনা ছিল তাদের
২৬ জুন মনোজিৎ মিশ্র কলেজের কর্মীদের ফোন করে এবং জানতে চায় পুলিশ ক্যাম্পাসে এসেছে কি না। এরপর দিন মনোজিৎ তার আইনজীবী বন্ধুদের ফোন করে কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করতে চায়নি।
কলকাতা, ৩ জুলাই: মনোজিৎ মিশ্রের (Monojit Mishra) দুই বন্ধু প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং জেইব আহমেদ কেন ধর্ষণের সময় সেই কীর্তির ভিডিয়ো রেকর্ড করছিল? পুলিশি জেরায় দুই বন্ধুর ধর্ষণ কাণ্ড রেকর্ডের বিষয়ে মনোজিৎ মিশ্র ওরফে ম্যাঙ্গো মুখ খুলতেই তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মনোজিতের কথায়, যে কাণ্ড তারা ঘটিয়েছে, তার বিষয়ে যদি নির্যাতিতা (Kasba Gang Rape) পুলিশের (Police) কাছে যান বা মুখ খোলার চেষ্টা করতেন, তাহলে অত্যাচেরর ক্লিপিংস দেখিয়ে তাঁকে থামানো যেত। সেই কারণেই মনোজিতের দুই বন্ধু প্রমিত এবং জেইব ওই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ভিডিয়ো রেকর্ড করে বলে খবর।
পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়েরের সময় কসবা কাণ্ডের নির্যাতিতা জানান, গত ২৫ জুন বিকেলে কলেজের নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হয়। ওই ঘটনায় তিনি এমনভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন যে প্রাথমিকভাবে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ফলে সেখান থেকেই তিনি বাবাকে ফোন করেন এবং তাঁকে কলেজ থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
২৫ জুন নির্যাতিতা যখন কলেজ ছাড়েন, তারপরই মনোজিৎ এবং তার ২ সঙ্গী প্রমিত এবং জেইবও সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। তবে এখানেই থেমে থাকেনি মনোজিৎ। সে তার বন্ধুদের নির্দেশ দেয়, কসবা থানার উপর নজর রাখতে। দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজের ওই ছাত্রী যাতে কসবা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে না পারেন, সে বিষয়ে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেয় মনোজিৎ তার বন্ধুদের।
২৬ জুন মনোজিৎ মিশ্র কলেজের কর্মীদের ফোন করে এবং জানতে চায় পুলিশ ক্যাম্পাসে এসেছে কি না। এরপর দিন মনোজিৎ তার আইনজীবী বন্ধুদের ফোন করে কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করতে চায়নি।
কারও কাছে কোনও সাহায্যে আশ্বাস না পেয়ে মনোজিৎ এরপর জেইবের সঙ্গে দেখা করে ফার্ন রোডে এবং পালানোর চেষ্টা চালায়। তবে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে। অন্যদিকে প্রমিতেকে তার বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় মনোজিৎ স্বীকার করে, সে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। শুধু তাই নয়, যবে থেকে ওই ছাত্রী কলেজে এসেছে, তখন থেকেই তার উপর নজর ছিল মনোজিতের। পুলিশি জেরায় ম্যাঙ্গো এই স্বীকারোক্তি দেয় বলে জানা যাচ্ছে।
জেইব এবং প্রমিতের জেরায় পুলিশ জানতে পারে, ওই তরুণীকে আগেই কুপ্রস্তাব দেয় মনোজিৎ। তবে তিনি তা নস্যাৎ করেন। যে ঘটনা একেবারেই মনোজিৎ ভাল চোখে দেখেনি। ওই তরুণীকে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া যায়, মনোজিৎ সব সময় তা চিন্তা করত। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই মনোজিতের এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ বলে জানা যায়।
আরও জানা যায়, ওই তরুণীর মন জয় করতে মনোজিৎ তাঁকে কলেজ নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তাবও দেয়। তবে সেখান থেকেও সে কোনও সাড়া পায়নি। মনোজিৎ, জেইব এবং প্রমিতের গ্রেফতারির পর কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পুলিশ গ্রেফতার করে। পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায় সঠিক উপায়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেননি। সেই অভিযোগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, মনোজিৎ ধারাবাহিক অপরাধী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে পুলিশের কাছে। যার মধ্যে হেনস্থা, মারধর, শ্লীলতাহানি, চুরির মত একাধিক অপরাধ নথিভুক্ত বলে জানা যায়।
(The above story first appeared on LatestLY on Aug 17, 0139 05:51 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

