Sonali Guha: সোনালী গুহের দিদিকে লেখা চিঠি নিয়ে কী বললেন দিলীপ ঘোষ
সোনালী গুহ (Photo: ANI)

কলকাতা, ২২ মে: অনেক ঢাক পিটিয়ে দলে নিয়েও শেষ অবধি সেই দলছাড়া। ভোটের ঠিক আগে টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সোনালী গুহ (Sonali Guha) আবার তৃণমূলে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করার পর অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি নেতারা। তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) সাতগাছিয়ার (Satgachhia) প্রাক্তন বিধায়ক সোনালী গুহ ইস্যুতে সাফ জানালেন, "এসবে দলের ক্ষতি হবে না। কারণ যাঁরা বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন তাঁরাই এখন ফিরে যাচ্ছেন। যেসব নেতা-নেত্রী দলকে ভালবাসেন, দলের সৈনিক তারা জয়-পরাজয় সব সময় দলের সঙ্গে থাকবেন।" সোনালীর সঙ্গে একই দিনেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ফুটবলার-রাজনীতিবিদ দীপেন্দু বিশ্বাসও ভোটের পর পদ্মশিবির ছেড়েছেন। নেতাদের দলছাড়ার থেকেও বিজেপি এখন ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়েই বেশি ভাবিত বলে রাজ্য বিজেপি নেতারা বলছেন। Sonali Guha Tweet: 'আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না', প্রিয় দিদিকে চিঠি লিখে দলে ফেরার আর্জি সোনালি গুহর

আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে সোনালী গুহ চিঠি লিখে, তৃণমূলে ফেরার আবেদন জানান। টুইটের মাধ্যমে চিঠিতে সোনালী গুহ লেখেন, "সম্মানীয়া দিদি, আমার প্রণাম নেবেন। আমি সোনালী গুহ, অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম অভিমানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়েছিলাম। যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদান্তে, আপনার স্নেহের সোনালী গুহ।"

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় যেদিন তাঁর নাম ঘোষণা করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেদিনই অভিমানে দল ছেড়েছিলেন দিদির এক সময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা তৎকালীন বিধায়ক সোনালী গুহ। এরপর হিসেব মিলিয়েই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা সাতগাছিয়ার নেত্রী সোনালী। কিন্তু এই কেন্দ্রে টানা চারবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও সোনালিকে প্রার্থী করেনি বিজেপি। তাঁর বদলে বিজেপি প্রার্থী করে চন্দন পালকে। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে ২৩ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে জয়ী হন মোহন চন্দ্র নস্কর। ফলেই পরিষ্কার হয়ে যায় জ্যোতি বসুর প্রাক্তন কেন্দ্র সাতগাছিয়ায় সোনালী একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। অথচ তিনি এখান থেকে ২০০১ থেকে টানা জিতে এসেছিলেন তিনি।