কাশ্মীর ইস্যু রাষ্ট্রসংঘে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেহরুর হিমালয়ের চেয়েও বড় ভুল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
অমিত শাহ (Photo Credits: PTI)

নতুন দিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর: কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে (Jawaharlal Nehru) আবারও দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নতুন দিল্লিতে এক সমাবেশে অমিত শাহ বলেন, কাশ্মীর সমস্যাকে রাষ্ট্রসংঘে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জওহরলাল নেহেরু ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছিলেন। এই ভুল হিমালয়ের চেয়েও বড়। অমিত শাহ বলেন, "সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ৬৩০টি প্রদেশকে একত্রিত করেছিলেন। নেহরুর কেবল একটি কাজ ছিল। সেটি হল ভারতের সাথে জম্মু ও কাশ্মীরকে একত্রিত করা। তবে সেই কাজটি কেবলমাত্র এই বছরের অগাস্ট মাসে হয়েছে। যখন মোদি সরকার অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রহ্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।"

৩৭০ অনুচ্ছেদে প্রহ্যাহারের সিদ্ধান্তের সমর্থনে অমিত শাহ বলেন, "আজও অনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং কাশ্মীর নিয়ে বহু গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলি স্পষ্ট করা জরুরি।" তিনি বিগত কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "আমরা জানি ১৯৪৭ সাল থেকে কাশ্মীর আলোচনার বিষয় এবং বিতর্কের বিষয়। তবে বিকৃত ইতিহাস জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। যেহেতু ইতিহাস লেখার দায়িত্ব একই লোকদের হাতে ছিল যারা ভুল করেছিল। সুতরাং আসল ঘটনা গোপন ছিল। আমি মনে করি সময় এসেছে যে সঠিক ইতিহাস মানুষের সামনে লেখা এবং উপস্থাপন করার।" আরও পড়ুন: 'সামরিক শাসন পাকিস্তানের ঐতিহ্য', ফের পাকিস্তানকে তোপ ভারতের

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মীর ইস্যু বারবার তোলার জন্য পাকিস্তানকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, "রাষ্ট্রসংঘে কোনও দেশই পাকিস্তানকে সমর্থন করেনি। সমস্ত দেশই ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক জয়।"

তিনি বলেন, "শেখ আবদুল্লা ১১ বছর ধরে জেলে ছিলেন এবং লোকজন মাত্র দু'মাসে আমাদের দিকে প্রশ্ন তুলছে।" অমিত শাহর আরও দাবি, খুব শীঘ্রই কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, "কাশ্মীরে কোনও লকডাউন নেই। সেটি আপনাদের মনে রয়েছে। কাশ্মীরের ১৯৬টি থানার মধ্যে কারফিউ সর্বত্র তুলে নেওয়া হয়েছে এবং মাত্র ৮টি থানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।" উপত্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থগিতের বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, "টেলিফোন সংযোগ কোনও মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়। বরং বিগত বছরগুলিতে ৪১,০০০ মানুষের হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন।"