Nagaland Civilian Killings: নাগাল্যান্ডের মন জেলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩০ সেনা জওয়ানের নামে চার্জশিট
Civilians killed In Nagaland (File Photo)

গুয়াহাটি, ১১ জুন: নাগাল্যান্ডের (Nagaland) মন জেলায় (Mon District) গত বছর ১৪ জন অসামরিক লোককে হত্যার ঘটনায় পুলিশের (Nagaland Police) চার্জশিটে ৩০ জন সেনার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের পুলিশ প্রধান বলেছেন, বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। এতে একজন সেনা কর্তা এবং ২৯ জন জওয়ানের নাম রয়েছে। এসআইটি (SIT) অভিযোগ করেছে যে ২১ প্যারা স্পেশাল ফোর্সের (21 Para Special Forces) জওয়ানরা স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন পদ্ধতি বা এসওপি (SOP) অনুসরণ করেনি। নাগাল্যান্ডের ডিজিপি টিজে লংকুমের ( DGP TJ Longkumer) বলেন, সেনাদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ গুলি চালানোর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসীদের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা ৫টি মামলা দায়ের করেছি। আরও তদন্ত চলছে।"

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিং গ্রাম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মায়ানমার সংলগ্ন ওই গ্রামে জঙ্গিদের যাতায়াত বাড়ছে, এই সন্দেহে সেখানে টহলদারির সময় একটি পিকআপ ভ্যান লক্ষ্য করে গুলি চালান ২১ প্যারা স্পেশাল ফোর্সের জওয়ানরা। যার জেরে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় ৬ জনের। জঙ্গি সন্দেহে গুলি চালিয়ে গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে টিরু গ্রাম। স্থানীয়রা সেনা জওয়ানদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। তাদের ওপর সেনাবাহিনী আবার গুলি চালায়। তাতে আরও ৭ জন অসামরিক লোক নিহত হয়। সংঘর্ষে এক সেনাও নিহত হয়।

পরের দিন ৫ ডিসেম্বর জনতা ওই এলাকায় অসম রাইফেলসের একটি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আবারও একজন অসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়, এতে মোট অসামরিক মানুষের মৃত্যুর বেড়ে হয় ১৪। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) । পাশাপাশি ওই ঘটনায় সিট তদন্তও করবেও বলেও তিনি সংসদে জানিয়েছিলেন। আরও পড়ুন: Prophet Remarks Row: নুপুর শর্মা-কে কেন এখনও গ্রেফতার করা হল না! সরব তৃণমূল

অভিযোগপত্রে নাম থাকা সেনাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুমতি চেয়েছে নাগাল্যান্ড সরকার। রাজ্য পুলিশও প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে একটি চিঠি দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুমোদন চেয়েছে। নাগাল্যান্ডের একটি বড় অংশ সশস্ত্র বাহিনীর (বিশেষ) ক্ষমতা আইন বা আফস্পা-র অধীনে রয়েছে। এই আইন বলে কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। সেনাবাহিনীর একটি পৃথক সেনা দলও ঘটনাটির তদন্ত করছে। একজন মেজর জেনারেলের নেতৃত্বে কোর্ট অফ ইনকোয়ারি টিম ইতিমধ্যেই ওটিং গ্রাম পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনাটি কোন পরিস্থিতিতে ঘটেছে তা বোঝার জন্যই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।