দিল্লি, ২৭ অগাস্ট: গ্রেটার নয়ডায় (Greater Noida) পণের দাবিতে অত্যাচারিত মৃত নিকি ভাটির (Nikki Bhati) বৌদির তরফে এবার বিস্ফোরক দাবি করা হল। নিকির এক সময়ের বৌদি মীনাক্ষির দাবি, তাঁকেও ওই একই ধরনের দাবি দাওয়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অর্থাৎ নিকির দাদা রোহিত পায়লার স্ত্রী ছিলেন মীনাক্ষি। তিনি যখন নিকিদের বাড়িতে ছিলেন, সেই সময় তাঁকেও পণের জন্য অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে বলে দাবি করেন মীনাক্ষি।
মীনাক্ষি বলেন, ২০১৬ সালে নিকি ভাটির দাদা রোহিত পায়লার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তাঁর বাড়ি থেকে সোনা, গয়না, মারুতি সুজ়ুকি গাড়ি দেওয়া হয় রোহিতকে। তবে সেই গাড়ি বিক্রি করে দেন তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি। ওই গাড়ি শুভ নয় বলে রোহিতের বাবা, মা তা বিক্রি করে দেন। এমনই দাবি করেন মীনাক্ষি।
শুধু তাই নয়, মীনাক্ষির পরিবারের কাছে এরপর এসইউভি গাড়ি এবং নগদ দাবি করেন রোহিতের বাড়ির লোকজন। দাবি মত, মীনাক্ষির পরিবার নতুন গাড়ি এবং নগদ দিতে না পারায়, তাঁকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমনই দাবি করেন নিকি ভাটির এক সময়ের বউদি।
এরপর পঞ্চায়েতের তরফে বসে সালিশি সভা। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, মীনাক্ষির পরিবারের তরফে যে ৩৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল রোহিতকে, তা ফেরৎ দিতে হবে। ৩৫ লক্ষ টাকা রোহিতরা ফেরৎ দিন, না হলে মীনাক্ষিকে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে দেওয়া হোক বলে জানানো হয় পঞ্চায়েতের তরফে।
তবে পঞ্চায়েতের কোনও কথাই রোহিতের পরিবার শোনেনি। ফলে মীমাংশা অপূর্ণই রয়ে গিয়েছে। রোহিত এবং তাঁর পরিবার কখওই তাঁকে মেনে নেয়নি বলে দাবি করেন মীনাক্ষি।
গ্রেটার নয়ডায় মৃত নিকি ভাটি
পণের দাবিতে খুন সম্প্রতি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় নিকি ভাটি নামে বছর ২৮-এর গৃহবধূর। বিউটি পার্লারের মধ্যে নিকিকে চড়, থাপ্পড় মেরে, তাঁর গায়ে দাহ্য তরল ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সিঁড়ি দিয়ে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দেওয়া হয় নিকিকে। গুরুতর অবস্থায় নিকিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় গত ২১ অগাস্ট।
নিকি ভাটির মৃত্যুর খবরে গোটা দেশে চাঞ্চল্য ছড়ায়। নিকি ভাটির মৃত্য়ু কীভাবে হল, সেই তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁর স্বামী বিপিন ভাটি, দেওর এবং শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়। আপাতত ওই ঘটনার তদন্ত চলছে।