Venezuela War: এবার আর শান্তি নয়, একেবারে যুদ্ধ চাইয়ের ভূমিকায় তৈরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donalkd Trump)। গোটা দুনিয়া জুড়ে গোটা দশেক যুদ্ধ থামানোর দাবি করে, এবার ট্রাম্প যুদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিরশত্রু ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro) সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ড্রাগ পাচার চালানোর অভিযোগ তুলে ট্রাম্প এবার সেখানে এয়ারস্ট্রাইক করতে চলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলার সেনা-ঘাঁটি ও সামরিক ঘাঁটিগুলিতে বিমান হামলা করতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। এমনকী ভেনেজুয়েলায় স্থলপথেও নামতে পারে মার্কিন সেনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শোনার পরিনাম বোঝাতেই প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে 'শিক্ষা' দিতে চলেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বনাম মাদুরো
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কলম্বিয়া সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই জলপথে আমেরিকায় ড্রাগ ও মাদক পাচার করা হয়েছে। আর যা সেবন করে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মার্কিনী আমজনতা। যদিও ট্রাম্পের এই তথ্যকে সমর্থন করার মত কোনও নথি নেই। জো বাইডেনের আমলেও মাদুরো প্রশসানের বিরুদ্ধে তোপ দাগা হত। তবে কখনই সরাসরি সে দেশে গিয়ে আঘাত হানার পরিকল্পনা করেনি হোয়াইটহাউস। তবে মাস দশেক আগে ট্রাম্প আসার পর হোয়াইটহাউস এবার যুদ্ধের মুডে। অনেকেই বলছেন, অবৈধ ড্রাগ পাচার নয়, ট্রাম্পের নজর ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভাণ্ডারের দিকে। বেজিংপন্থী মাদুরোকে সরিয়ে আমেরিকার বন্ধু চলতি বছর নোবেল জয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো-কে ক্ষমতায় আনাই ট্রাম্পের পাখির চোখ বলে মনে করা হচ্ছে।
জলপথে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার ওপর হামলা চালাচ্ছে মার্কিন নৌ সেনা
A Colombian citizen who survived a US strike on a suspected drug-smuggling submarine in the Caribbean has been repatriated with severe brain trauma.
The attack was the latest in a series of US strikes targeting alleged traffickers off Venezuela’s coast which have killed dozens. pic.twitter.com/eSN8X8pGF8
— Al Jazeera English (@AJEnglish) October 19, 2025
ট্রাম্পের দাবি মাদক পাচার রুখতে ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধ দরকার
এর আগে ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন পাচারকারীদের পাঁচটি নৌযানে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার আঘাত নামতে পারে স্থলভাগে, সরাসরি ভেনেজুয়েলার সেনা ঘাঁটিতে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন,মাদক পাচার রুখতেই এই অভিযান। সেই সঙ্গে মাদুরোর সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার চাপে ফেলা তাদের উদ্দেশ্য। তাঁর দাবিতে, ভেনেজুয়েলার সামরিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই লাতিন আমেরিকা হয়ে মার্কিন মুলুকে ঢুকছে মাদক।
সবুজ সঙ্কেত দিয়েই রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
চমকপ্রদভাবে, CIA-কে ইতিমধ্যেই গোপন অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ঠিক কবে অভিযান শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই হোয়াইট হাউসের সূত্রের খবর। ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান ঘিরে লাতিন আমেরিকা জুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। সম্ভাব্য হামলা হলে ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকার ভূরাজনীতিতে বড়সড় প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের। জাতিসংঘ ও ওএএস নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর। ভেনেজুয়েলা তাদের দেশে মার্কিন হামলার পরিকল্রনাকে 'সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন' বলে তীব্র আক্রমণ করেছে মাদুরো সরকার। তাই এবারও তীব্র প্রতিক্রিয়া আসবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।