কলকাতার অলিগলিতে একসময় যে খেলাটি কেবল পরিচিতদের মধ্যে হাতবদলের মাধ্যমে চলত, সেই 'কলকাতা ফটাফট' এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ নিয়েছে. তবে এই আধুনিকায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতারণা এবং হ্যাকারদের দাপট. বর্তমানে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য অননুমোদিত অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই খেলাটি পরিচালিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় আর্থিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে.

সনাতন পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল রূপান্তর

একটা সময় ছিল যখন স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে নগদে এই লটারি বা সাট্টা খেলা চলত. বর্তমানে সেই জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোন অ্যাপ. প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে খেলাটি আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগামী হয়েছে. দিনে আটবার (রবিবার চারবার) ফল ঘোষণা হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে অল্প সময়ে বেশি আয়ের প্রলোভন কাজ করে. এই দ্রুত গতির কারণেই এটি 'ফটাফট' নামে পরিচিত.

হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ ও সাইবার প্রতারণা

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা ফটাফটের নামে অনলাইনে অসংখ্য ভুয়া ওয়েবসাইট এবং টেলিগ্রাম চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে. হ্যাকাররা বিভিন্ন আকর্ষণীয় 'টিপস' বা 'আগে থেকে ফল জানিয়ে দেওয়ার' প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে. অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতারক চক্র ভুয়ো অ্যাপ তৈরি করে মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে. এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগ ইতিমধ্যেই এই ধরণের একাধিক আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং চক্রের পর্দাফাঁস করেছে, যার শিকড় অনেক সময় ভিনরাজ্য এমনকি বিদেশের সাথেও যুক্ত.

প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও আইনি জটিলতা

যদিও পশ্চিমবঙ্গে লটারি আইনত বৈধ, কিন্তু কলকাতা ফটাফটের মতো সাট্টা বা নম্বর ভিত্তিক গেমগুলি অনেক ক্ষেত্রেই ধূসর এলাকায় পড়ে. পুলিশি অভিযানে প্রায়ই বাগুইআটি, নিউ টাউন বা সল্টলেকের মতো এলাকা থেকে বেআইনি অনলাইন জুয়া চক্রের পান্ডাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে. প্রশাসন বারবার সতর্ক করছে যে, ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে টাকা বিনিয়োগ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে.

আর্থিক ও সামাজিক ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের খেলায় জেতার চেয়ে হারানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে. দ্রুত টাকা উপার্জনের নেশায় জড়িয়ে অনেক নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন. যেহেতু এই খেলাগুলি কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে সরাসরি থাকে না, তাই টাকা হারিয়ে গেলে আইনি প্রতিকার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে.

অনলাইনে ফলাফল দেখার সময় কেবল নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট (যেমন kolkataff.in বা kolkataff.tv) ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে. তবে মনে রাখা জরুরি, যেকোনো ধরণের আর্থিক ঝুঁকি নেওয়ার আগে তার বৈধতা এবং নিরাপত্তা যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন. হ্যাকারদের থেকে বাঁচতে অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা বা অননুমোদিত অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে.