Bangladesh Air Force jet crashes. (Photo Credits:X)

বাংলাদেশের ঢাকার উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বায়ুসেনার  প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২৭, আহত ১৬৯ জনেরও বেশি।মৃত ২৭ জনের মধ্যে দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া বাকি সবাই শিশু। গতকাল দুপুর দেড়টা নাগাদ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি F7 বিমান মাইলস্টোন কলেজের উপর বিমানটি ভেঙে পড়ে। বিমানটির নাক স্কুল বাড়ির সিঁড়ি ভেদ করে যায় এবং সিঁড়ির উভয় পাশের ক্লাসের ভিতর বাকি অংশ ঢুকে যায়।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্র ডেইলি সান জানিয়েছে, দুটি শ্রেণীকক্ষে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। যার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তখনই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ছাত্র ছাত্রীদের। এছাড়াও প্রচুর কর্মচারী, ছাত্র ছাত্রী আগুনে ঝলসে গেছেন। তাদের জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  দুপুর ২.২৫ মিনিট নাগাদ ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, যার ফলে উদ্ধার অভিযানের পথ সুগম হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি এবং অন্যান্য সংস্থা উদ্ধার কাজে যোগ দেয়।যদিও বিমানটি ভেঙে পড়ার কারণ এখনও জানা যায়নি।দুর্ঘটনায় আজ এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিমান দুর্ঘটনার পর ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।  নম্বরটি হল 01949-043697।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) জানিয়েছে, কুর্মিটোলায় অবস্থিত বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বীরউত্তম একে খন্দকার থেকে উড়ানের পরপরই এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষিত যুদ্ধবিমানটি "কারিগরি ত্রুটির" সম্মুখীন হয় এবং বিধ্বস্ত হয়। সূত্রের খবর এই বিমান ঘাঁটিতে নিয়মিত সামরিক বিমান চলাচল করে, যার মধ্যে প্রশিক্ষণ অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত উচ্চ-গতির জেট বিমানও রয়েছে। প্রসঙ্গত বাংলাদেশের এফ-৭ হলো এর একটি আধুনিক রূপ, যা সোভিয়েত মিগ-২১ এর আদলে তৈরি। ২০১৩ সালে চীন বাংলাদেশে ১৬টি এফ-৭ বিজিআইয়ের শেষ ইউনিট সরবরাহ করার পর এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।