Partha Chatterjee SSC Scam: এগারো সালে ক্ষমতায় আসার আগেও রেলের চাকরি বেচে টাকা তুলেছে তৃণমূল, ইডি-র জেরায় চাঞ্চল্যকর দাবি পার্থর
Partha Chatterjee And Arpita Mukherjee (Photo: Twitter)

কলকাতা, ৩০ জুলাই: মন্ত্রী ও দলের পদ থেকে অপসারিত হতেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন পার্থ চট্টাপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে খবর, জেরায় পার্থ জানিয়েছেন যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সহ দলের প্রত্যেকেই স্কুলে চাকরি দেওয়ার জন্য অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতেন। এক তদন্তকারী বলেছেন, "পার্থ দাবি করেছেন যে তিনি কেবল টাকার হেফাজতকারী ছিলেন। তিনি কখনও প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনও টাকা চাননি বা নিজে টাকা নেননি। দলীয় নির্দেশ পালন করেছেন কেবল। অন্যদের দ্বারা তৈরি করা নথিতে তিনি কেবল সই করতেন। অন্যরাও টাকা তুলেছিলেন এবং সেই টাকা তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে। টাকা নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য় তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দলের ব্যবহারের জন্য কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এই টাকার মাত্র একটি ভগ্নাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি এখনও পর্যন্ত এটিই জানিয়েছেন।"

পার্থ চট্টোপাধ্যায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিধায়ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সঙ্গে প্রথম থেকে যে কজন ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম পার্থ। তিনি প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়েরও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ৭০ বছর বয়সে তিনি যে ধরণের অপমান বা শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন, তা আগে কখনই হননি। আরও পড়ুন: SSC Recruitment Scam: বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটের একাধিক ডুপ্লিকেট চাবি একাধিক ব্যক্তির কাছে ছিল, ইডি-র জেরায় দাবি অর্পিতার

আরেক ইডি-র তদন্তকারী বলেছেন, "পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন দাবি করেছেন যে দল অন্যান্য বিভাগেও চাকরি বিক্রি করে টাকা তুলেছে। এই সংস্কৃতি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার আগের সময়ের। অভিযোগ, সেই সময় টাকা দিয়ে রেলে চাকরি পেয়েছিল অনেকে। পার্থ এটাও উল্লেখ করেছেন। মাঝেরহাটের একটি নির্দিষ্ট অফিসে টাকার খেলা চলত। পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে পার্টি তাঁর ভাগ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে এত সময় নিয়েছে কারণ অন্যান্য নেতারা তাঁদের বাড়ি পরিষ্কার করছিলেন। বাড়ি পরিষ্কার হয়ে যেতেই তাঁরা হাত ধুয়ে ফেলেন এবং তাঁকে ঝেড়ে ফেলে।"

আইনজীবীরা বলছেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় একজন অভিযুক্ত এবং তিনি যা বলবেন তার সমর্থনে প্রমাণ থাকতে হবে। দলের প্রাক্তন মহাসচিব হিসেবে তাঁর এই দাবি কোনও কাজে আসবে না। অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা সম্পর্কে পার্থ জানিয়েছেন যে অর্পিতাকে মডেলিং এবং চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়তে তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করছেন মাত্র। তিনি স্বীকার করেছেন যে পার্টির জন্য যে নগদ টাকা তোলা হয়েছিল, তা লুকিয়ে রাখার জন্য তাঁর একটি ফ্রন্ট দরকার ছিল। তার বদলে কিছু সুবিধা দিতে হয়েছিল।

পার্থ দাবি করেছেন যে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নামে কেনা সম্পত্তিতে আরও অনেক শীর্ষ নেতা বাদ পড়েছেন। যাইহোক, এগুলি নিছকই অভিযোগ, যা আদালতে প্রমাণ করতে হবে।