কী কাণ্ড!  ফুচকাওয়ালার প্রেমে পড়ে বিবাহবিচ্ছেদে মরিয়া গৃহবধূ
ফুচকার প্রতীকী ছবি (Photo Credit: Twitter)

কৃষ্ণনগর, ২৫ অক্টোবর: কথায় আছে না “যার সাথে মজে মন কিবা হাঁড়ি কিবা ডোম।” কৃষ্ণনগরের গৃহবধূ জয়শ্রীরও অবস্থা কতকটা তেমনই। পরকীয়া তো এখন হামেশাই ঘটছে, সেই কবে কবিগুরু লিখেছেন “প্রেমের ফাঁদ পাতা ভূবনে কে কোথা ধরা পড়ে কে জানে।” আর সেই প্রেম যদি হয় ফুচকাকে ঘিরে তাহলে সাতখুনও দোষের নয়। এমনটাই ধারণা যাঁরা প্রেমরসে বলি হয়েছেন, তাঁদের। ফুচকাসুরে বধ নয় এমন বঙ্গললনা খুঁজে পাওয়াই দুস্কর। সে সদ্য বিয়ের কণে হোক বা সন্তান জননী। আসাযাওয়ার পথে ফুচকাওয়ালার ঠ্যালা দেখেছো কি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে সেখানে যাওয়া আর রসনাকে তৃপ্তি দিতে একখানা শালপাতার বাটি জোগাড় করে লাইন দেওয়া। এই ছবি আজ চিরন্তন হয়ে গিয়েছে।

প্রতিদিন ফুচকা খেতে খেতে জিভও স্বাদ বুঝে নেয়, সব ফুচকাওয়ালার মশলা মাখানো আলুর স্বাদ এক হতে পারে না। এই ধরুন রায়গিন্নির যেমন মোড়ের মাথার পাঁচুর দোকানের ফুচকা দারুণ লাগে। আবার দত্তগিন্নি তো পাঁচুকে দেখলেই খেপে যান। কবে নাকি দশ টাকার ফুচকা কম দিয়েছিল, বলতে যাওয়া একটা ফাউ দিল। তাতে এমন লঙ্কা ডলে দিয়েছিল যে মনে পড়তেই ফের দত্তগিন্নির গলাটা জ্বলে উঠল। মাগো, কোন জন্মের শত্রুতা তা কে জানে। যাকগে তাইতো চৌরাস্তার সাঁই ফুচকা সেন্টার ছাড়া অন্যকিছু দেখতেই পান না দত্তগিন্নি। এই যে ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতার বোঝাপড়া এটা ফুচকাওয়ালাদের কাছ থেকে শিখতে হবে। মহিলা ক্রেতার মন পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ওই মশলা কম পড়ল তো নুন নেই। টক জলে টকের থেকে জল বেশি, ধনেপাতা কোথায় গেল? এখন আর গন্ধরাজ লেবু দিতেই চাও না। এমন হাজারও অনুযোগ। দিনের পর দিন এসব চলতে থাকলে ফুচকাওয়ালার সঙ্গেও ছাপোষা গৃহবধূর প্রেম হলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এ যে সে প্রেম নয় একেবারে ফুচকায় মাখামাখি প্রেম। তেমনটাই ঘটেছে জয়শ্রীর সঙ্গে।  আরও পড়ুন-Sovan Chatterjee & Baishakhi Banerjee meets CBI: সারদা তদন্তের জেরায় সিজিও কমপ্লেক্সে শোভন-বৈশাখী

দেড়বছর আগে প্রকাশের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের মাসখানেক মধ্যেই কারখানায় লকআউট প্রকাশ ঘরে বসে গেলেন। জয়শ্রী তখন প্রাইভেট টিউশনি শুরু করে সংসার টানছেন। আসাযাওয়ার পথে পাড়ার মোড়ের ফুচকাওয়ালার থেকে প্রায়ই দশ টাকার সান্ধ্য টিফিন চলত। মাঝে খুচরো না থাকলে ফ্রিতেই ফুচকা খাওয়ার অফার। সুখদুঃখের কথাবার্তা। সমব্যথী হতে হতে কবেই য়ে দুজন দুজনের প্রতি অনুরক্ত হয়ে উঠেছেন বোঝেননি। ফুচকাওয়ালার ব্যবসা মন্দ হয় না। বৃহস্পতি একেবারে তুঙ্গে, সঙ্গে এমন মনকাড়া স্বাদের ফুচকা। তিতো হয়ে যাওয়া দাম্পত্য থেকে রেহাই পেতে এবার ফুচকাওয়ালাকেই আঁকড়ে ধরলেন গৃহবধূ। স্বামী প্রকাশকে গিয়ে সাফ জানালেন ডিভোর্স চাই। ফুচকাওয়ালাকে বিয়ে করবেন, পাড়ার লোকে সবশুনে হতবাক। তবে প্রকাশ মনে করেন এই কমাসে নয় এহেন অনুরাগ পর্ব দীর্ঘদিনের।