What Is National Sports Governance Bill? ভারতের ক্রীড়া জগতকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদারভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ভারত সরকার জাতীয় ক্রীড়া শাসন বিল (National Sports Governance Bill) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হল ক্রীড়া সংস্থাগুলির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আর্থিক অনিয়ম রোধ করা এবং ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে সহায়তা করা। সম্প্রতি সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া জাতীয় ক্রীড়া পরিচালনা বিল ভারতের ক্রীড়া প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো ও মানসম্মত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। লোকসভায় অনুমোদনের একদিন পরেই মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয়ে যায়। Digital Banking In Post Office: ভারতীয় ডাক ব্যবস্থায় বিপুল পরিব পরিবর্তন, চালু হচ্ছে ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা
জাতীয় ক্রীড়া শাসন বিলের প্রধান উদ্দেশ্য
১. ক্রীড়া সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি
২. আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ম প্রয়োগ
৩. ক্রীড়াবিদদের কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা
৪. লিঙ্গ সমতা ও নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি
৫. দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রীড়ার মানোন্নয়ন
বিলের প্রধান বৈশিষ্ট্য
ক্রীড়া ফেডারেশনগুলির জন্য নিয়মকানুন
- সকল ক্রীড়া সংস্থাকে স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি মেনে চলতে হবে।
- সংস্থাগুলির সদস্যদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ও মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।
- ক্রীড়া ফেডারেশনগুলিকে নিয়মিত অডিট করতে হবে এবং রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আর্থিক স্বচ্ছতা
- সরকারি অনুদান বা স্পনসরশিপের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
- ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে বার্ষিক আর্থিক রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।
- কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের অধিকার ও নিরাপত্তা
- ক্রীড়াবিদদের যৌন হয়রানি, বৈষম্য ও শোষণ থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ বিধান।
- ক্রীড়াবিদদের জন্য বীমা, চিকিৎসা সুবিধা ও পেনশন স্কিম চালু করা।
- তরুণ ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।
লিঙ্গ সমতা ও অন্তর্ভুক্তি
- ক্রীড়া সংস্থাগুলির নির্বাহী কমিটিতে মহিলাদের জন্য ৫০% আসন সংরক্ষণ।
- মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ অনুদান ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান।
জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন কোড (NSDC)
- এই বিলের অধীনে একটি জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন কোড তৈরি করা হবে, যা ক্রীড়া নীতিগুলিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
ক্রীড়া সংস্থাগুলির বিরোধিতা – অনেক ক্রীড়া সংস্থা তাদের স্বায়ত্তশাসন হারানোর ভয়ে এই বিলের বিরোধিতা করতে পারে।
আর্থিক অনিয়মের দীর্ঘস্থায়ী সংস্কৃতি– বহু বছর ধরে চলে আসা দুর্নীতি দূর করা কঠিন হতে পারে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ– ক্রীড়া সংস্থাগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জাতীয় ক্রীড়া শাসন বিল ভারতের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। যদি এই বিল সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভারতের ক্রীড়া জগত আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হবে। তবে, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার, ক্রীড়া সংস্থা ও ক্রীড়াবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই বিল এখন পাস হয়েছে যা ভারতকে বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম করবে।