রক্তে সুগারের মাত্রা থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে একমাত্র উপায় ঢ্যাঁড়স
ঢ্যাঁড়স(Photo Credit: Flicker)

ঢ্যাঁড়স( Ladies finger) কোথাকার, এমন মশকরা আশপাশে প্রায়ই শোনার সৌভাগ্য হয়ে থাকে। কিন্তু জানেন কি এই ঢ্যাঁড়শই কমিয়ে দিতে পারে রক্তে থাকা সুগারের মাত্রাকে। এককথায় ডায়াবেটিসের মতো কঠিন রোগও ঢ্যাঁড়সের ভয়ে কাবু হয়ে থাকে। ১০০ গ্ৰাম ঢ্যাঁড়সের মধ্যে ক্যালোরির পরিমাণ মাত্র ৩৩। এই কারণেই এই খাবারকে অ্যান্টিডায়াবেটিক খাবার বলা হয়ে থাকে। সাধারণত খাওয়াদাওয়ার পর আমাদের রক্তে সুগারের পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যায়। যা ডায়াবেটিস(Diabetes) রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু ঢ্যাঁড়স খেলে এমন ঘটনা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন যাঁরা ডায়াবেটিসের আগের স্টেজ আছেন বা ডায়াবেটিস রোগে সবেমাত্র আক্রান্ত তারা কিন্তু ঢ্যাঁড়স খেয়ে রক্তে সুগারের(Sugar) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

কার্ডিওভাসকুলার  ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ডায়াবেটিসের কারণে যে ক্লান্তিবোধ রোগীকে ঘিরে থাকে, তা পুরোপুরি দূর করে দেয় এই ঢ্যাঁড়স।  এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। যা ডায়াবেটিকদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। হার্টের রোগ এড়ানো যায়। তাই বেশি ভাবনা চিন্তা না করে আজ থেকেই খাদ্য তালিকায় রাখুন ঢ্যাঁরসকে।

মানসিক শান্তি না থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যাঁর যত চিন্তাভাবনা তিনি  ততটাই অসুস্থ। সুগার, ডায়াবেটিস তাঁকে সুস্থির থাকতে দেয় না। আর ডায়াবেটিক রোগী যদি চিনাতার পারদ কমাতে না পারেন তাহলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। যত চিন্তা বাড়বে ততউত্তেজনা বাড়বে এর থেকে হৃদরোগের প্রবণতাও মাথা চাড়া দিতে পারে। সেকারণেই প্রত্যেক ডায়াবেটিক রোগীর উচিত লাঞ্চ বা ডিনারে অবশ্যই ঢ্যাঁড়স খাওয়া। কারণ এই সবজিতেই রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা স্ট্রেস কমাতে অভূতপূর্ব ভূমিকা নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে যাঁরা নিয়মিত ঢ্যাঁড়স খান তাঁদের ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ঢ্যাঁড়শে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরে ইনসুলিনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। আর ডায়েটরি ফাইবার খাবার হজমের কাজে লাগে। ঢ্যাঁড়স ভাল করে দুয়ে ভিজিয়ে রাখুন, পরের দিন সকালে সেই জল খেলেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমবে। টার্কিতে একটা সময় ডায়াবেটিস সারাতে ঢ্যাঁড়সের বীজ শুকিয়ে খাওয়ার চল ছিল।