Bois Locker Room: নিজেকে গণধর্ষণের কথাই কী বলেছিল ছাত্রীটি? তদন্তের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে
Snapchat (Photo Credits: Pixabay)

নয়াদিল্লি, ১১ মে: ‘বয়েজ লকার রুম’ (Bois Locker Room)। একটি ইনস্টাগ্রাম গ্রুপকে ঘিরে তোলপাড় হয়ে যায় গোটা দেশ। হেফাজতে নেওয়া হয় গ্রুপের মূল পান্ডাকেও। কিন্তু তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের হাতে উঠে এলে একেবারে অন্য তথ্য। স্ন্যাপচ্যাটে একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিজেকে ছেলে পরিচয় দিয়েছিল দিল্লির এক ছাত্রী। এরপরই একটি তার পূর্ব-পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে কথাবার্তা বলতে শুরু করে সে সিদ্ধার্থ নাম নিয়ে। সেখানেই ছেলেটির চরিত্র যাচাই করে দেখতে ‘গণধর্ষণ’-র প্রস্তাব দেয় মেয়েটি। দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) সাইবার অপরাধ শাখার প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্যই।

বয়েস লকার রুম গ্রুপের যেসমস্ত স্ত্রিনশট প্রকাশ্যে আসে। তারমধ্যে ছিল একটি স্ন্যাপচ্যাটের স্ক্রিনশটও। যেথানে সিদ্ধার্থ নামের একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে চ্যাট করতে শুরু করে ছাত্রীটি। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ছাত্রী নিজেকে সিদ্ধার্থের পরিচয় দিয়ে নিজেকেই গণধর্ষণের কথা বলেছিল তার বন্ধুকে। ছেলেটির মেয়েটির সম্পর্কে মনোভাব ঠিক কীরকম, সেটি জানতেই এমন প্রস্তাব দেয় মেয়েটি। সিদ্ধার্থ নামের ভুয়ো অ্যাকাউন্টটি থেকে এমন প্রস্তাব আসার পরই স্ন্যাপচ্যাটে কথা বলা বন্ধ করে দেয় ওই কিশোর। এমনকী, সে গণধর্ষণের মত ঘৃণ্য কাজে অংশ নেওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেনি। পাশাপাশি সে ওই স্ন্যাপচ্যাটের একটি স্ক্রিনশট ‘বয়েজ লকার রুম’ এবং তার কিছু বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করে। তদন্তের পর এমনটাই জানালেন দিল্লি পুলিশের (cyber crime unit) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অন্বেষ রায়। এমনকী, ছেলেটি সেই মেয়েটিকেও স্ক্রিনশটটি দেয়, যে রীতিমত ‘ছদ্মবেশ’ নিয়ে সিদ্ধার্থের ভূমিকায় এমন কথোপকথন চালায়। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় গণধর্ষণের স্ক্রিনশটটি। আরও পড়ুন: Shramik Special Trains: চূড়ান্ত গন্তব্যস্থলে পৌঁছনোর আগে আরও যাত্রী তুলতে তিন জায়াগায় থামবে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন 

যদিও ছেলেটি বা মেয়েটির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এখনও পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের তরফে। পুলিশের দাবি, ভুয়ো আইডি তৈরি করা অত্যন্ত অন্যায়। কিন্তু কোনও বিদ্বেষমূলক মনোভাব নিয়ে সে কাজটি করেনি। শুধুমাত্র ছেলেটির মনোভাব এবং চরিত্র জানতেই এমন কাণ্ড করে দিল্লির ওই ছাত্রী। যার জেরে ছেলেটি বা মেয়েটির বিরুদ্ধে কোনও মামলা রুজু করা হয়নি।

ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের নিয়ে আপত্তিসূচক মন্তব্য, ধর্ষণের ইচ্ছে প্রকাশ, নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এই লকডাউনের মধ্যেই এখন আলোচনার শীর্ষে দিল্লির প্রাইভেট ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ বয়েজ লকার রুম (Bois Locker Room)। এই গ্রুপের কিছু স্ক্রিনশট ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়েছিল দেশজুড়ে। বয়েজ লকার রুমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। দক্ষিণ দিল্লির এই নামী স্কুলের ছাত্ররা ওই ইনস্টাগ্রামের গ্রুপটিতে নাবালিকাদের গোপনাঙ্গ নিয়ে আলোচনা করে বলে অভিযোগ উঠেছিল।