US-China Trade Breakthrough: তলানিতে চলে যাওয়া সম্পর্কের বরফ গলার পথে। শুল্ক, পাল্টা শুল্ক নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে চলা অঘোষিত বাণিজ্য যুদ্ধ এবার থামার পথে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ASEAN সম্মেলনের পাশে দুই দিনের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত কমানোর জন্য একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ দুই দেশের এই আলোচনায় "খুবই গঠনমূলক" অগ্রগতি হয়েছে, যা নতুন শুল্কের হুমকি ও চলমান বাণিজ্য দ্বন্দ্বের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে। এই প্রাথমিক চুক্তি আগামী ৩০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় APEC সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মুখোমুখি বৈঠকের পথ খুলে গেল। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও আন্ত:বিশ্ব রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে। ট্রাম্পের লক্ষ্য হল, জিনপিংয়ের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলে দেশবাসীকে এটা প্রমাণ করা তিনি ছাড়া চিনের সঙ্গে আমেরিকার আগের কোনও প্রেসিডেন্ট বন্ধুত্ব করতে পারেনি।
কোন পথে গলছে বরফ
দুই দেশের মধ্যে শুল্ক বিরতি ১০ নভেম্বরের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে। দুই পক্ষও প্রধান পণ্যে নতুন শুল্ক আর বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চিন বিরল খনিজ রফতানিতে সীমাবদ্ধতা সাময়িকভাবে স্থগিত করল। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও চিনের ওপর আরোপ করা অতিরিক্ত শুল্ক কমাতে রাজি হল। চিন আমেরিকান কৃষি পণ্য বিশেষত সোয়াবিন ও শস্যের ক্রয় বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য যুদ্ধের আগে $৪০ বিলিয়নের বার্ষিক স্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবার চিনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ট্রাম্পের দেশ। দুই দেশের মধ্যে চুক্তিতে আমেরিকার দাবি অনুযায়ী চিনের কেমিক্যাল রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মূল আলোচকরা
আমেরিকার পক্ষ থেকে দুই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের কোষাধ্যক্ষ বা ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এবং মার্কিন বাণিজ্য সংস্থার প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। গত মে থেকে এটি আমেরিকার পঞ্চম বার্ষিক পারস্পরিক বৈঠক। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এশিয়া সফরের আগে উত্তেজনা কমানো। চিনের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ভিস প্রিমিয়ার হে লিফেং এবং শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক লি চেংগ্যাং। তাঁরা মারডেকা টাওয়ারে সামিটের মূল ইভেন্ট থেকে দূরে শান্তিপূর্ণ ও গোপন বৈঠক করেন।