US President Donald Trump (Photo Credit: X)

একেবারে তালুবন্দি মনে করা নোবেল পুরস্কারটা জিততে না পারায় মেজাজটা ভাল নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তার মধ্যে আবার বাকিদের চাপে রাখা গেলেও, চিনকে কিছুতেই সামলাতে পারছেন না ট্রাম্প। উল্টে 'রেয়ার আর্থ মিনারেল' বা দুর্লভ জাতীয় খনিজ পদার্থ রফতানিতে আমেরিকা সহ বিদেশী দেশগুলিকে কঠোর নির্দেশিকা পাঠিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কার্যত একহাত নিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। তাই এবার চিনের ওপর একেবারে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে চাপের খেলায় নামলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, আগামী পয়লা নভেম্বর থেকে (বা তার আগেই প্রয়োজনে)চিনের সমস্ত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ, আগে থেকেই চালু থাকা গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানি শুল্কের ওপর আরও একধাপ বাড়তি বোঝা পড়তে চলেছে। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিং–ট্রাম্প বৈঠক হওয়ার কথা ছিল APEC ফোরামের আগে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও ট্রাম্প পরে বলেন, "বৈঠক এখনও বাতিল নয়, বেজিংয়ের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।"

চিনের 'হুমকি চিঠি'র জবাবেই পাল্টা চাল ট্রাম্পের

ট্রাম্পের এই শুল্ক সিদ্ধান্ত এসেছে চিনের সাম্প্রতিক 'হোস্টাইল লেটার' (hostile letter)’ -এ দুর্লভ খনিজ পদার্থে রফতানি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরই। ট্রাম্প ড্রাগনের দেশের ওপর শুল্ক আরোপকে বলেছেন, " দুর্লভ খনিজ নিয়ে যা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে পণবন্দি করে রেখেছে চিন।"

কী ছিল চিনের দুর্লভ খনিজ নিয়ে ট্রাম্পকে পাঠানো কড়া চিঠিতে

গত বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর চিনের বাণিজ্য মন্ত্রক "ঘোষণা নম্বর ৬১" প্রকাশ করে, যা বিশ্বের দেশগুলোকে জানানোর জন্য চিঠি বা বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এটি ট্রাম্প-জি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সভার আগে ঘটে। সেই চিঠিতে চিনের নিয়ন্ত্রণাধীন ৫টি নতুন দুর্লভ খনিজ না 'রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট' (holmium, erbium, thulium, europium, ytterbium) যুক্ত করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রিত ৭টির সঙ্গে মিলে মোট ১২টি। এগুলো EV, সেমিকন্ডাক্টর, AI এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অপরিহার্য। সব রফতানিকৃত পণ্যে চিনা-উৎপাদিত দুর্লভ খনিজ পর্দার্থে কোনো অংশ থাকলেও (তা যত কমই হোক) লাইসেন্স লাগবে। বিশেষ করে চিপ, AI এবং সামরিক ব্যবহারের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্যালোচনা হবে।

মার্কিন শেয়ার বাজারে ধাক্কা

ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পরেই মার্কিন শেয়ার বাজা 'ওয়াল স্ট্রিটে' বড় পতন দেখা দেয়। সূচক ২.৭ শতাংশের নিচে নামে, যা এপ্রিলের “Liberation Day Tariffs”–এর পর সবচেয়ে খারাপ দিন। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ফের শুরু হচ্ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার নতুন পর্ব।

অর্থনৈতিক প্রভাব

২০২৫-এর প্রথম সাত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিন থেকে আমদানি ২৩৯ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে ১৯৪ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। নতুন শুল্কে সাধারণ মার্কিন পরিবারের বছরে অতিরিক্ত ১,৩০০ ডলার খরচ বাড়তে পারে বলছেন বিশ্লেষকরা।

‘রেয়ার আর্থ’ নিয়ে কৌশলগত টানাপোড়েন

চিনের রফতানি নিয়ন্ত্রণের মূল নিশানা ইলেক্রিক ভেহিক্যাল (ইভি), সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ। ট্রাম্পের ভাষায়, "বেজিং গোটা বিশ্বকে পণবন্দি করে রেখেছে।"

প্রযুক্তি রফতানিতেও কঠোর মার্কিন প্রতিরোধ

শুধু শুল্ক নয়, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন চিনের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিশেষত সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)নির্ভর প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন অধ্যায়

আগস্টে ঘোষিত ৯০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেল। ট্রাম্পের এই ঘোষণা অর্থনীতিবিদদের মতে 'বাণিজ্যযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব'। ফলে, মার্কিন শুল্ক ১৩০ থেকে ১৪০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।