সিওল, ৮ মার্চ: বাড়ির পোষ্য কুকুরটা ক'দিন ধরে খুঁজে পাচ্ছিলেন না দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংপিয়ংয়ের এক ব্যক্তি। একদিন নিজের প্রিয় কুকুরের অস্পষ্ট আওয়াজ শুনে প্রতিবেশী এক বাড়িতে কাউকে কিছু না বলেই ঢুকে পড়েন তিনি। আর এরপর তিনি যা দেখলেন তা শুনলে চমকে ওঠার জোগাড়। এক ব্যক্তির বিস্ফোরক অভিযোগ শুনে স্থানীয় পুলিশ এসে এক ব্যক্তির হাজারটিও বেশী মৃত কুকুর উদ্ধার করল একটি বাড়ি থেকে। ৬০ বছরের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে হাজারটিও বেশী কুকুর উদ্ধারের পর সিওলের পুলিশ শুধু জানায়, তদন্ত পুরো না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, বিভিন্ন জায়গা থেকে কুকুরদের ধরে এনে নিজের বাড়ির বেসমেন্টে রেখে তাদের না খাইয়ে, জল না দিয়ে মেরে ফেলাটা খুনে শখে পরিণত করেছিলেন সেই ব্যক্তি। আবার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমনও বলা হচ্ছে, পোষ্য মালিকরা যারা আর তাদের কাছে কুকুর রাখতে চাইছিলেন না, কারণ তাদের বাজারে আর বিক্রি করে দাম থাকবে না, এমনই কুকুরদের ছেড়ে যেতেন ওই ব্যক্তির কাছে। আর তারপর বিকৃত মানসিকতার সেই ব্যক্তি কুকুরগুলিকে জল-খাবার না খাইয়ে মেরে ফেলত। এমনকী কয়েকটি কুকুরকে নিজের কাছে রাখার জন্য তাদের মালিকের অনেকের কাছে সাত ডলার করে নিতেনও তিনি। নিজেকে কুকুর প্রিয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে, লাভ মাই ডগস নামের এক কোম্পানিও খুলেছিলেন তিনি। আরও পড়ুন-ফোনে KYC আপডেট করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার, ৭ লক্ষের বেশি খোয়ালেন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী
২০০২০ সাল থেকে এভাবে একের পর এক কুকুরকে খুন করে কখনও তাদের কাঠের বাক্স, রবারের খামের মধ্যে করে কবর দিতে দিত। সেই ব্যক্তির বাড়ির বাগানে একটু মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক মৃত কুকুর। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাণী সুরক্ষা আইনের অধীনে সেই ব্যক্তির তিন বছর কারাদণ্ড, ৩ কোটি ওন (স্থানীয় মুদ্রা)-এর বেশী শাস্তি দেওয়ার উপায় নেই।