দিল্লি, ৩০ জুন: ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) বিরুদ্ধে ফতেয়া জারি করলেন ইরানের (Iran) এক ধর্মগুরু। আয়াতোল্লা মাকারেম শিরাজি নামে ইরানের এক প্রথম সারির ধর্মগুরু (Iranian Cleric) এই ফতেয়া জারি করেন ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। ইরানের প্রধান ধর্মগুরু আয়াতোল্লা খোমেইনি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে মন্তব্য করেন, তার প্রেক্ষিতে পশ্চিমী দেশ এবং পশ্চিম এশিয়ার তার অন্যতম সেরা বন্ধু দেশের বিরুদ্ধে ফতেয়া জারি করেন শিরাজি।
'মারজাকে (দেশের প্রধান ধর্মীয় গুরু) যে বা যাঁরা হুমকি দেবেন, তাঁদের আল্লাহর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।' এমন মন্তব্য করেন শিরাজি। প্রসঙ্গত মুসলিমদের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে মারজা হলেন, প্রধান ধর্মগুরু। যাঁকে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মান্য করা হয়। এসবরে পাশাপাশি যে মুসলিম দেশগুলি ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে, তাঁরাও 'হারাম' করছে। অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমেরিকা (US) এবং ইজরায়েলকে (Israel) সমর্থন করা কোনওভাবেই উচিত নয় মুসলিম দেশগুলির। এমন মন্তব্য করেন শিরাজি।
বিষয়টির সূত্রপাত কোথায়?
ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ যখন জোর কদমে শুরু হয়, সেই সময় আগ বাড়িয়ে সংঘর্ষ বিরতি চুক্ত করার প্রস্তাব দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান প্রথমে রাজি না হলেও, শেষে সংঘর্ষ বিরতি হয় দুই যুযুধান দেশের মাঝে। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তিনি ইরানের প্রধান ধর্মীয় গুরু আয়াতোল্লা খোমেইনিকে একটি জঘন্য মৃত্যুর হাত থকে রক্ষা করেছেন। খোমেইনি কোন বাঙ্কারে আত্মগোপণ করেন, তা তিনি জানতেন। তারপরও সংঘর্ষ বিরতি করিয়ে তিনি তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্যের পরই মুখ খোলেন শিরাজি। সেই সঙ্গে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করেন ফতেয়া।
প্রসঙ্গত গত ১৩ জুন থেকে খোমেইনি ইরানের গোপণ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। ইরানের সঙ্গে ইজরায়েলের যুদ্ধ যখন জোর কদমে শুরু হয়েছে, সেই সময় কোমেইনিকে গোপণ আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইসও ছিল না। ফলে খোমেইনি কোথায়, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয় গোটা বিশ্ব জুড়ে। তবে অন্তরাল ভেঙে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসে খোমেইনির ট্যুইট। যেখানে ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। যা ইজরায়েল এবং আমেরিকার গালে সপাটে চড় বলে মন্তব্য করেন তিনি।