ইলন মাস্ক ও ডোনাল্ড ট্রাম্প (ছবিঃ Wikimedia Commons FB)

Trump vs Musk: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেসলা-স্পেস এক্স প্রধান ইলন মাস্কের সম্পর্কটা একেবারে তলানিতে ঠেকল। দুই পরম বন্ধু এখন দুজনেরর চরম শত্রু। ট্রাম্পের 'ওয়ান বিগ বিউটফুল'বিলের বিরোধিতা করে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল ধরানোর জন্য সরাসরি বার্তা দিয়েছিলেন মাস্ক। তার পাল্টা হিসেবে মাস্কের কোম্পানির সব ভর্তুকি তুলে টেসলা-স্পেস এক্স প্রধানকে তার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফেরত পাঠানো হবে বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন বড় হুমকির পর নিজেকে গুটিয়ে নিলেন মাস্ক। দুনিয়ার ধনীতম ব্যক্তি আপাতত দুনিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী পদে থাকা ব্যক্তিকে চটালেন না। মার্কিন সেনেটে ট্রাম্পের বিগ বিউটফুল ৫১-৫০ ভোটে কোনওরকমে পাশ করার পর, মাস্ক আর প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করলেন না।  আপাতত ট্রাম্প-মাস্ক সম্পর্কে যুদ্ধবিরতি।

মাস্ককে তার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত পাঠানোর হুমকি দেন ট্রাম্প

মাস্ককে আমেরিকা থেকে বের করে তার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে, ট্রাম্প এমন চরম হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এদিন এক্স প্ল্যাটফর্মে স্পেস এক্স-টেসলা সিইও-কে একেবারে নরম সুরে কথা বলতে দেখা গেল। নতুন দল খোলা নিয়ে কাল, মঙ্গলবার মাস্ক যেরকম এক্স-এ উত্তেজিত পোস্ট করছিলেন, তার বদলে আজ তিনি একেবারে অন্য সুরে কথা বললেন। 'One বিগ বিউটফুল বিল'-এর প্রসঙ্গ এড়িয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট শেয়ার করে সরাসরি প্রেসিডেন্টের প্রশংসাই করলেন মাস্ক। আমেরিকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ট্রাম্পের হুমকির পর এক্সে মাস্কের বেশিরভাগ পোস্টে শুধু তাঁর কোম্পানি স্টারলিঙ্ক, টেসলা, স্টারশিপের প্রচার করে গেলেন মাস্ক। গতকাল, ট্রাম্পের ছেলের একটা পোস্ট শেয়ার করে জুনিয়র ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছিলেন মাস্ক। আরও পড়ুন-

মহম্মদকে অপমানের অভিযোগ, ৩ কার্টুনিস্টকে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে মারধরের ভিডিয়ো ভাইরাল

দেখুন কীভাবে এদিন এক্সে ট্রাম্পের প্রশংসা করলেন মাস্ক

 

কেন পিছু হটলেন মাস্ক

কিন্তু কেন পিছু হটলেন মাস্ক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুনিয়ার ধনীতম ব্যক্তি সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছেন। এখন ট্রাম্প সত্যি তাঁর কোম্পানিগুলির ওপর ব্যবস্থা নিলেন, ভর্তুকি তুলে নিলে বেশ চাপে পড়ে যাবেন মাস্ক। একেই তাকে নিয়ে চলা দেশজুড়ে বিক্ষোভের ফলে টেসলার বিক্রি রেকর্ড সংখ্যক কমে গিয়েছে। আমেরিকায় মাস্কের জনপ্রিয়তা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। দেশের বিরোধী শিবিরের মধ্যে ট্রাম্পকে নিয়ে চরম ক্ষোভ। জো বাইডেন জমানায় মাস্কের টেসলা, স্পেস এক্স নিয়ে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক মামলা এখনও ঝুলে। এমন সময় ট্রাম্প যদি একবার মাস্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন, তাহলে টেসলা প্রধান যে বিশাল বড় ধাক্কা খাবেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তা ছাড়া ট্রাম্পের বিগ বিউটফুল বিল নিয়ে রিপাবলিকান পার্টিতে যতটা বিদ্রোহ হবে বলে মাস্ক আশা করেছিলেন, ততটা হয়নি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুটি সাজাতে পারেন মাস্ক

তাই মাস্ক এখন অপেক্ষার রাস্তাতেই থাকলেন। তাঁকে যারা চেনেন তারা বলছেন, দেশ থেকে তাড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া হুমকিটা, মাস্ক হজম করার পাত্র নয়, বরং আরও অনেক বড় ধাক্কা তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিতে পারেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, এখন কটা মাস চুপ থাকলেও, আগামী বছর প্রাইমারি ভোটের আগে ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা দিতে গুটি সাজাতে পারেন টেসলা প্রধান। এমনতিই ট্রাম্পও অভিবাসন নীতি থেকে ইরান যুদ্ধ, হাভার্ড বিশ্ববিদ্য়ালয়ে বিদেশি ছাত্র ইস্যুতে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন। সময়ই বলে দেবে, খাদের কিনারায় চলে গেলে ট্রাম্পকে সবার আগে মাস্ক-ই ধাক্কা মারেন কি না।