দিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর: এবার ভারতের (India) বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হল আজারবাইজানের (Azerbaijan) তরফে। আজারাবাইজানের অভিযোগ, পাকিস্তানকে সমর্থন করায় ভারত 'প্রতিশোধ' নিচ্ছে। পাকিস্তানকে সমর্থন করায়, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্পূর্ণ সদস্যপদ তাদের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ করছে ভারত। আজারবাইজানের অভিযোগ, এসসিওকে সম্পূর্ণ সদস্য পদ লাভের জন্য বাকু যে আবেদন করেছিল, ভারতের তরফে তাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনের সময় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভ। সেই সঙ্গে অপারেশন সিঁদূরের সময় পাকিস্তানকে (Pakistan) সরাসরি সমর্থন করে আজারবাইজান। তুর্কীর পাশাপাশি এই মুসলিম (Muslim Country) দেশটিও সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়। এরপর এসসিও শেহবাজ় শরিফের সঙ্গে আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতির খোলাখুলি বৈঠকের পর তাদের এসসিওতে (SCO Summit) তাদের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ লাভের যে আবেদন, তাতে ভারতের তরফে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বাকুর।
আরও পড়ুন: Modi-Putin In SCO: 'দারুণ বৈঠক হয়েছে', তিয়ানজিনে 'বন্ধু' মোদীর হাত ছাড়লেন না রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন
তুর্কীর একটি সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়েছে, এসসিও তাদের সদস্য পদের আবেদনে ভারত বাধা দিলেও, ইসলামাবাদের সঙ্গে আজারবাইজান সৌভ্রাতৃত্ব এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতির কথায়, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক, সবদিক থেকে সমান। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁরা সম্পর্ক বজায় রাখবেন বলে জানান আলিয়েভ।
এসবের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে আজারবাইজান সমস্ত ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও মেনে চলবে বলে সে দেশের রাষ্ট্রপতির তরফে জানানো হয়েছে।
আজারবাইজানের একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্য়মের তরফে দাবি করা হয়, দিল্লির তরফে বাকুর স্থায়ী সদস্যপদে বাধা দেওয়া হয়েছে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে। যদিও দিল্লির তরফে এ বিষয়ে কোনও ধরনের মন্তব্য করা হয়নি।
অপারেশনব সিঁদূরের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলায় আজারবাইজান
পহেলগাম হামলার পর ভারতের তরফে শুরু করা হয় অপারেশন সিঁদূর। ওই সময় পাকিস্তানে ঢুকে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। অপারেশন সিঁদূরে প্রায় ১০০ জঙ্গি নিকেশ করেন ভারতের বীর জওয়ানরা।
ভারত যখন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবন অক্ষত রেখে জঙ্গি নিধন শুরু করেছে, সেই সময় ইসলামাবাদ এ দেশের একাধিক জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালানোর চেষ্টা করে। আর ওই সময় ভারতের বিরুদ্ধে তুর্কীর দেওয়া ড্রোন ছুঁড়তে শুরু করে পাকিস্তানে। তুর্কীর পাশাপাশি আজারবাইজানও খোলাখুলি সমর্থন জানায় পাকিস্তানকে। সেই থেকে আজারবাইজানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে।