Russia Earthquake. (Photo Credits:X)

Russia Kamchatka Earthquake: গত জুলাইয়ের শেষে রাশিয়ার কামচাটকা প্রদেশে ৮.৮ মাত্রা ভয়াবহ ভূমিকম্পে দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়েছিল ত্রাস। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের সেই কামচাটকা অঞ্চলের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ফের ভূমিকম্প। এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS)জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৮।কেন্দ্রস্থল ছিল পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি শহরের প্রায় ১২৮ কিমি পূর্বে, ভূমির মাত্র ১০ কিমি গভীরে।

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রাশিয়ার উপকুলে আছড়ে পড়ল মিনি সুনামি

শহরের বিভিন্ন বহুতল, সরকারি ভবন ও স্কুল-অফিস কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন মানুষজন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই মুহূর্তের ভিডিও। তবে এলাকাটি জনবসতিহীন হওয়ায় বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভূমিকম্পের পরই রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ কামচাটকা ও সাখালিন দ্বীপে সুনামি সতর্কতা জারি করে। কামচাটকার কিছু উপকূলে এক মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়লেও বড় ধরনের বন্যা হয়নি। আমেরিকার আলাস্কাতেও কয়েক ঘণ্টা সতর্কবার্তা জারি হয়েছিল, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

দেখুন ভূমিকম্পের ভয়াবহ ভিডিও

একের পর এক আফটারশক

মূল ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৫-এর উপরে। সর্বোচ্চ আফটারশকের মাত্রা ছিল ৫.৮। কামচাটকার গভর্নর ভ্লাদিমির সোলোদভ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড়সড় ক্ষতির খবর নেই। জরুরি পরিষেবা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, স্কুল-হাসপাতাল থেকে শুরু করে বাসস্থান সব জায়গায় দ্রুত পরিদর্শন করা হয়েছে।

দেখুন ভূমিকম্পের ভিডিও

গত জুলাইয়ে ৮.৮ মাত্র ভূমিকম্প হয়েছিল কামচাটকায়

কামচাটকা উপদ্বীপ প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অফ ফায়ার'-এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে ২০টির বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। গত জুলাইয়ে এই অঞ্চলে ৮.৮ মাত্রার ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়েছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। তারপর ১৩ সেপ্টেম্বরও ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। জাপানের হোক্কাইডো অঞ্চলে মৃদু কম্পন (শিন্ডো ২) ধরা পড়েছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ও হাওয়াইয়েও ছোট মাপের সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

১৯৫২ সালে কামচাটকায় ৯ মাত্র ভূমিকম্প হয়েছিল

USGS-এর হিসেব বলছে, ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল প্রায় ৩৯০ কিমি লম্বা ও ১৪০ কিমি চওড়া এক ফাটলরেখা। পরবর্তী সপ্তাহে আরও বড় ভূমিকম্প হওয়ার ২৪ শতাংশ সম্ভাবনা আছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৫২ সালে কামচাটকায় ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ভয়াবহ ক্ষতি করেছিল। তুলনায় এবারের ভূমিকম্পে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। তবে ভূতত্ত্ববিদদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই অঞ্চলেই আরও একাধিক “মেগা-থ্রাস্ট কুইক” হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।