পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১: কত আসনে জেতার টার্গেট নিচ্ছে তৃণমূল, জানালেন অভিষেক ব্যানার্জি
অভিষেক ব্যানার্জি। (Photo Credits: Facebook)

কলকাতা, ২৮ অগাস্ট: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বড় ঘোষণা অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)। তৃণমূলের অঘোষিত নম্বর টু-র সাফ ঘোষণা, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২৫০টি আসনে জেতার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ জোর গলায় বলেন, 'কেন্দ্রে সাম্প্রদায়িক সরকার উৎখাত করবেন মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূলের লক্ষ্য একটাই, ২০২১-এর নির্বাচনে ২৫০টি আসন পাবে তৃণমূল।' প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিধানসভায় ২৯৪টি আসন আছে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ১২৮টি বিধানসভা আসনে লিড পেয়েছে বিজেপি। লোকসভায় তৃণমূল ২২টি, বিজেপি ১৮টি আসনে জেতে। উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কোনও লোকসভা আসনে জিততে পারেনি।

জঙ্গলমহলেও আসনহীন রাজ্য়ের শাসক দল। রাসবিহারী, হাবড়া, সিঙ্গুর সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি তৃণমূল গড়ে রাজ্যের শাসক দল পিছিয়ে পড়েছে। গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে দিদি ঝড়ে তৃণমূল জিতেছিল ২১১টি আসনে। রাজ্যে সরকার গড়তে হলে ১৪৪জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে লোকসভার ফলের নিরিখে তৃণমূলের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। আরও পড়ুন-দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কোলাঘাটা থানায় মামলা দায়ের পুলিশের

লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৪২-টিতেই জয়ের টার্গেট নিয়েছিলেন মমতা ব্য়ানার্জি। কিন্তু সেখানে রাজ্য়ের শাসক দল মাত্র ২২টি পায়। এবার প্রশান্ত কিশোরের টোটকায় মিশন ২৫০-তে নামতে চলেছে তৃণমূল। এমন একটা সময় যখন গোটা দেশে বিজেপি-র ঝড় চলছে। রাজ্য়েও বিজেপি দারুণ ফল করে চাঙ্গা, তৃণমূলের একের পর পর বিধায়ক-মেয়র-জনপ্রতিনিধিরা মোদি শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। দিলীপ ঘোষ ক দিন আগে দাবি করেছিলেন, আগামী ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০০টি-র বেশি আসনে জয় পাবে।

বিজেপি ‘রাবনের উপসাক’, তাই অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে উঠেপড়ে লেগেছে। ধর্মের নামে মানুষকে দলে টানার চেষ্টা করছে বিজেপি। সিবিআই আর ইডি-র ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে ভাঙিয়ে দলে টানতে চায় বিজেপি। যেই দেখচে কেউ রাজি হচ্ছে না অমনি জেলে পুরে দেবার ভয় দেখাচ্ছে। তবে জেলে যেতে রাজি থাকলেও বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি মানতে রাজি নন মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল ছাত্রপরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে এভাবেই ধর্মতলায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।

তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সারা দেশে একনায়ক তন্ত্র চালাচ্ছে। দেশে প্রেসিডেন্সিয়াল ডেমোক্রেসি চালু করার চেষ্টা হচ্ছে। এরা কারও কোনও কথা শোনে না। মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। সংবাদমাধ্যমগুলোকে সব কিনে নিয়েছে। ‘জয় শ্রী রাম’ (Jay Shri Ram) ধ্বনি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বিজেপি। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চলছে দেশজুড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এভাবে কেন্দের বিজেপি সরকারকে মুহুর্মুহু আক্রমণে বিদ্ধ করছেন, তখন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাম কে নাম তথ্যচিত্র দেখানোকে কেন্দ্র করে শোরগোল শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র এই তথ্যচিত্রের প্রদর্শন চায়, বাকিরা বাদ সেধেছে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত বিতর্ক এড়াতে রাম কে নাম প্রদর্শিত হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আজ তো তৃণমূল সুপ্রিমো বলেই দিলেন রাবনের পুজো করে বিজেপি, তাই রাম মন্দির তৈরি করতে চায়।