
আগামী ৩ মার্চ বিয়ে। বাড়ির ছেলের বিয়ে বলা কথা, সেইজন্য বাঁকুড়ার হীড়বাঁধ থানার বড় আড়াল গ্রামের বাড়িতে চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এদিকে শুক্রবার সকালেই হুগলির চুঁচুড়ায় ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে (Imambara District Hospital) পুলিশ লক আপে ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল হিমাংশু মাঝির। তার আগেই কাকভোরে শান্ত পরিবেশের মধ্যে বন্দুকের বিকট শব্দ শোনা গেল। জানা গেল কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর বন্দুক থেকে চলেছে গুলি। আর সেই গুলির ঘায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন হিমাংশু। তড়িঘড়ি তাঁর সহকর্মীরা উদ্ধার করে ওই হাসপাতালেই নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়।
হতবম্ব হিমাংশুর পরিবার
জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার নাইট ডিউটিতে যোগ দিয়েছিলেন হিমাংশু। শুক্রবার সকালে ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ভোরের দিকে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। যদিও কী কারণে এই ঘটনা তিনি ঘটালেন তা এখনও পরিস্কার নয়। সাতসকালেই হিমাংশুর পরিবার এমন খবর পেয়ে হতবম্ব হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে এসেছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। কী কারণে হিমাংশু এই ঘটনা ঘটালেন, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ
পুলিশসূত্রে খবর, বাঁকুড়ার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরেই চন্দননগর পুলিশে রয়েছেন হিমাংশু। পুলিশ ব্যারাকেই থাকতেন তিনি। পোস্টিং ছিল ব়্যাফে। ঘটনার আগের দিন রাতেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল বলেই জানিয়েছেন সহকর্মীরা। তারপরেও এই ঘটনা কীভাবে তিনি ঘটালেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। মানসিক অবসাদ নাকি অন্য কোনও কারণে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন হিমাংশু, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।