কলকাতা পুরসভা শহরের মোট সাতটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে। গতকাল পুরভবনে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ একথা জানান। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি শহরে ডেঙ্গুর কবলে প্রাণহানির ঘটনার পরই পুরসভার তরফে কড়া নজরদারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডেপুটি মেয়র তথা স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ। তিনি জানান, সমীক্ষা চালিয়ে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বেশ কিছু ফাঁকা জমি ও পুকুরের সন্ধান পাওয়া গেছে।পুরসভার তরফে সেগুলি পরিষ্কার করার কাজ চলছে। এই জায়গাগুলি ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া মশার প্রজননের উপযুক্ত হওয়ায় ইতিমধ্যে পুরসভার তরফে বেশ কিছু জমি ও পুকুর পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে, এই মুহূর্তে শহরে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেন অতীন বাবু।

কলকাতা পুরসভা ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে আসন্ন দুর্গাপুজো সুষ্ঠুভাবে পালন করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে। গতকাল (১৮ অগস্ট,২০২৫) কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ পুরভবনে একথা জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শহরজুড়ে পুজো প্রস্তুতি চলছে এবং এই পুজোয় প্যান্ডেল তৈরীতে ব্যবহৃত বাঁশ খাড়া করে রাখার ফলে তার ওপরের অংশে জল জমার সম্ভবনা থাকে। সকলের অগোচরে সেই জল ডেঙ্গুর মশার প্রজনন স্থল হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণে এবার বাঁশের মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভার ভেক্টর কন্ট্রোল বিভাগ। পাশাপাশি, চলতি বছরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত জনিত কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রামক রোগ বেশি করে দেখা দিচ্ছে বলে অতীন বাবু উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এজন্য পুরসভার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত মানুষের খোঁজ করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সচেতন করা হবে। এছাড়া, পুরকর্মীদের মাধ্যমে শহরের ফাঁকা জমি ও পুকুর সহ বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। তবে ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়েছে এমন বেশ কিছু জায়গায় পুনরায় জঞ্জাল জমা হচ্ছে বলে অতীন বাবু অভিযোগ করেন। ডেঙ্গু সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করতে সাধারণ মানুষকেই সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন ডেপুটি মেয়র তথা স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ। প্রসঙ্গত, শহরে সম্প্রতি ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ঘটনায় তিনি বার্ধক্যজনিত কারণ ও পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করেছেন। সামান্য জ্বর হলেই পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্ত পরীক্ষা করা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার বার্তাই দিয়েছেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।