পাটনার পারস হাসপাতালে গুলিকাণ্ডে (Patna Shootout Case) শনিবারই কলকাতা থেকে গ্রেফতার হয়েছে চার অভিযুক্ত। যার মধ্যে মূল অভিযুক্ত তৌসিফ ওরফে বাদশা রয়েছেন। ধৃত ৪ জনকেই আনন্দপুর থানা থেকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে। সম্ভবত চারজনের জন্য আজই ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করবে বিহার ও পাটনা পুলিশের তদন্তকারী দল। এই ঘটনায় ভুবনেশ্বর থেকে মণীষকুমার সুমন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সবমিলিয়ে এই ঘটনায় মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জেরা করছে তদন্তকারী দলটি।

আনন্দপুরের গেস্টহাউসে লুকিয়ে ছিল তৌসিফরা

জানা যাচ্ছে, পারস হাসপাতালে কুখ্যাত গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্রকে গুলি করে খুন করার পর বাংলাতেই গা ঢাকে দেয় তৌসিফ, নিশু খান সহ চার দুষ্কৃতি। তদন্তসূত্রেই কলকাতায় পাটনা ও বিহার পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল আসে। নিউটাউন, আনন্দপুরের একাধিক গেস্টহাউসে তল্লাশি চালিয়ে আটক করা হয় চারজনকে। যদিও গেস্টহাউস কর্তৃপক্ষ চারজনকে কীসের ভিত্তিতে ঘর দিল, সেটা এখন বড় প্রশ্ন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, দুজন তাঁদের পরিচয়পত্র দেখিয়েছিল, কিন্তু বাকি দুজন দেখায়নি। সেক্ষেত্রে তাঁদের ঘর কেন দিন, এই নিয়ে মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

শেরু সিংয়ের সঙ্গে চন্দন মিশ্রের সম্পর্ক

জানা যাচ্ছে, দিনকয়েক আগে পারস হাসপাতালের আইসিইউ-তে ঢুকে তৌসিফরা চিকিৎসাধীর চন্দনের ওপর গুলি চালায়। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। পুলিশের সূত্রে খবর, কুখ্যাত দুষ্কৃতি শেরু সিং ও চন্দন মিশ্র দুজনে আগে একসঙ্গে কাজ করত। দুজনে মিলে বিহারে খুন, অপহরণ, ডাকাতির মতো একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে মাঝে কোনও একটি ঘটনার জেরে এই সম্পর্কে চিড় ধরে। এরপরেই শেরু গ্রেফতার হয়ে পুরুলিয়া জেলে বন্দি রয়েছে। এই গ্রেফতারির জন্য চন্দন দায়ি বলে মনে করত শেরু। তাই তৌসিফের মতো সুপারি কিলারকে দিয়ে চন্দনকে খুন করানো হয়।