কলকাতা, ৫ অগাস্ট: বাংলাদেশি (Bangladeshi Model) মডেল শান্তা পালকে গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা (Kolkata) থেকে। শান্তা পাল (Shanta Pal) কী কারণে কলকাতায় থাকতে আসেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। বৈধ ভিসা নিয়ে শান্তা পাল বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারতে আসেন। তারপর ভুয়ো, জাল কাগজপত্র তৈরি করে কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। এমনকী ভারতে এসে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড জাল করে তৈরির পর শান্তা ভারতীয় হিসেবে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে। ফলে শান্তা পালের গ্রেফতারির পর থেকে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শান্তা পাল কি বাংলাদেশি চর? উঠছে এমন নানা প্রশ্ন। পাক চর জ্যোতি মালহোত্রার (Jyoti Malhotra) (পাকিস্তানি চর) মতই কি শান্তা মডেল সেজে, ইনফ্লুয়েন্সার সেজে ভারতের (India) গুরুপূর্ণ তথ্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন? এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, ২০২৩ সালে শান্তা পাল ভারতে আসেন। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার পর শান্তার পাসপোর্ট, ভিসার মেয়াদ সব উত্তীর্ণ হয়ে যায়। তারপরও শান্তা ভারতের বসবাস করছিলেন ঠিক কী উদ্দেশ্য নিয়ে, সে বিষয়ে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, গত বছর থেকে ভারত এবং বাংলাদেশের মাঝে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যখন তলানিতে গিয়ে ঠেকতে শুরু করে, সেই সময় সে দেশের কোনও নাগরিককে ভিসা দেওয়া হবে না বলে জানায় দিল্লি। এরপর শান্তা অনককেই বলতে শুরু করেন, ভারতে আসার জন্য তাঁরা যাতে মেডিকেল ভিসার আবেদন করেন। ভারতে আসার জন্য মেডিকেল ভিসার আবেদন করতে ঠিক কতজন শান্তা পালের সাহায্য নিয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ সব তথ্য খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
ভারতে আসার পর বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন সান্তা। দিঘা থেকে সিকিম, গ্যাংটক, অনেক জায়গা ঘুরে বেড়ান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ভ্লগ আপলোড করেন। ভারত, চিন সীমান্ত নাথুলা পাসেও শান্তা পৌঁছে যান ভ্লগ তৈর করতে। এমন খবরও পুলিশের হাতে আসে।
এসবের পাশাপাশি আসান ট্রাভেলস নামে একটি কলকাতা এবং বাংলাদেশের ট্রাভের কোম্পানির বিজ্ঞাপনও শান্তা করছিলেন বলে খবর। এসবের পাশাপাশি একটি হোটেল খোলার জন্য শান্ত ঋণও নিয়ে ফেলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
গত বুধবার দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড় থেকে শান্তা পালকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বিক্রমগড়ে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে স্বামী এবং বাবা,মাকে নিয়ে থাকছিলেন শান্তা। সেখান থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শান্তাকে গ্রেফতারির পর এবার নৈহাটির এক যুবককেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সৌমিক দত্ত নামের ওই যুবকই জাল নথিপত্র তৈরি করতে বাংলাদেশি মডেল, ইনফ্লুয়েন্সার শান্তা পালকে সাহায্য করেন বলে খবর।
প্রসঙ্গত পাকিস্তানি গুপ্তচর জ্যোতি মালহোত্রা যেভাবে ট্রাভেল ভ্লগের নাম করে পাক দূতাবাসে গিয়ে আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, শান্তার ক্ষেত্রে তেমন কোনও খবর রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের তরফে।