মুখে বয়সের ছাপ কমাতে সবাই চায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো ত্বকেও দেখা যায় বয়সের ছাপ। মুখে বলিরেখা, রুক্ষতা, ডার্ক স্পট, ত্বকের শিথিলতা—এই সবই বয়সের স্বাভাবিক প্রভাব। উপযুক্ত রূপচর্চায় এর প্রভাবকে অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। ত্বকের চিকিৎসকরা বিশেষভাবে তিনটি পদ্ধতি প্রয়োগের পরামর্শ দেন: এক্সফোলিয়েশন, হাইড্রেশন, এবং সানপ্রোটেকশন।
১. এক্সফোলিয়েশন: মৃত কোষ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে । ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষগুলো ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও কোমলতা নষ্ট করে। এই কোষগুলি নিয়মিত না তুললে ত্বক মলিন, রুক্ষ এবং নিস্তেজ দেখায়। এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং-এর মাধ্যমে এই মৃত কোষ সরিয়ে ফেলা যায়।
ত্বক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সপ্তাহে অন্তত ২ বার হালকা ময়শ্চারাইজারযুক্ত স্ক্রাবার ব্যবহার করতে। রাসায়নিক এক্সফোলিয়েটর যেমন AHA (আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড) বা BHA (বিটা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড)-যুক্ত প্রোডাক্টও ত্বকের গভীরে কাজ করে বলিরেখা কমাতে সহায়তা করে। তবে সংবেদনশীল ত্বকে এগুলো ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
২. হাইড্রেশন: ত্বক টানটান রাখতে জল এবং ময়শ্চার অপরিহার্য । বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে থাকে। ফলস্বরূপ, ত্বকে টানটান ভাব কমে যায় এবং বলিরেখা দেখা দেয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান ও উপযুক্ত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার ত্বককে ভিতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে। ডার্মাটোলজিস্টরা হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা গ্লিসারিনযুক্ত ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এগুলি ত্বকের জল ধরে রাখতে সাহায্য করে ও দীর্ঘস্থায়ী কোমলতা প্রদান করে। রাতে ঘুমের আগে নাইট ক্রিম বা সিরাম লাগালে ত্বকের রিজেনারেশন আরও ভালো হয়।
৩. সানপ্রোটেকশন: সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা অত্যন্ত জরুরি । বয়সজনিত ত্বক পরিবর্তনের একটি প্রধান কারণ হল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays)। দীর্ঘদিন রোদে থাকার ফলে ত্বকে পিগমেন্টেশন, দাগ এবং বলিরেখা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন বাড়ির বাইরে যাওয়ার আগে SPF 30 বা তার বেশি সূর্যরোধক (সানস্ক্রিন) ব্যবহার করা উচিত।
সানস্ক্রিন শুধু রোদের দিন নয়, বর্ষা ও শীতকালেও প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা রোদে কাজ করেন বা গাড়ি চালান, তাদের জন্য এটি অপরিহার্য।
বয়স বাড়বে—এটা থামানো সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং সানপ্রোটেকশন প্রয়োগ করলে মুখে বয়সের ছাপ অনেকটাই কমে আসে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কম রাখাও সমান জরুরি।