রাজস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল সিন্ধরা, যাকে ধামোলিও বলা হয়। তিজের একদিন আগে একটি বিশেষ উপায়ে এই উৎসবটি পালন করে বিবাহিত মহিলারা। এই দিনে মহিলারা বাড়িতে তৈরি করে পুরি, গাট্টে এবং আলু সবজি, কাবুলির মতো বিশেষ খাবার। এই উৎসব উপলক্ষে সারাদিন শুধু জল পান করে উপবাস করে মহিলারা। সিন্ধরা বিবাহিত মহিলাদের জন্য খুবই বিশেষ দিন। মিষ্টি এবং সাজসজ্জার জিনিস সিন্ধরা হিসেবে দেওয়া হয় এই দিনে।

উপবাস করা মেয়ে যদি শ্বশুর বাড়িতে থাকে তাহলে বাপের বাড়ি থেকে পাঠানো হয় সিন্ধরা এবং পুত্রবধূ যদি বাপের বাড়িতে থাকে তবে শ্বশুর বাড়ি থেকে আসে সিন্ধরা। সিন্ধরাতে দেওয়া হয় বিয়ের জিনিসপত্র‌। তার মধ্যে থাকে টিপ, সিঁদুর, টিকলি, কাজল, নাকের নথ, কানের দুল, সবুজ চুড়ি, মেহেন্দি, ফুলের গজরা, সোনার গয়না, কোমরবন্ধ, হাতের ও পায়ের আংটি এবং চিরুনি। মিষ্টির মধ্যে পাঠানো হয় ঘেভার, রসগোল্লা, খোয়া বরফি। এছাড়া জামাকাপড়ও পাঠানো হয়।

সিন্ধরা উৎসবের দিন ব্রহ্মমুহূর্তে উঠে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, ফলমূল, শুকনো ফল এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের খাওয়া হয়। এরপর ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করে শুরু হয় উপবাস। উপবাসের এই রীতি অনেকটা করভা চৌথের মতোই হয়। পরের দিন সকালে অর্থাৎ তিজের দিন মহিলারা স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরে ধ্যান করে। শিব ও পার্বতীর দর্শন ও পুজোর পর ১৬বার দোলনায় দোল খাওয়ার নিয়ম পালন করে। সন্ধ্যায় চন্দ্র দেবকে জল নিবেদন করে দেবী পার্বতীর পুজো করে বিবাহিত মহিলারা। এরপর ছাতু, মরসুমি ফল খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করে তারা।