দিল্লি, ১৪ জুলাই: ত্রিপুরার (Tripura) ছাত্রী স্নেহা দেবনাথের (Sneha Debnath Death) মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দিল্লিতে (Delhi) যমুনা নদী থেকে স্নেহা দেবনাথের দেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে স্নেহার মৃত্যু হল, তা নিয়ে ছড়িয়েছে ধোঁয়াশা। স্নেহার মৃত্যুর (Tripura Student Death) পর পুলিশ (Delhi Police) তজোর কদমে শুরু করেছে তদন্ত। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া কোনদিকে এগোচ্ছে, তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, স্নেহা শেষ ঠিকানা ছিল দিল্লির সিগনেচার ব্রিজ। এমনকী ক্যাব চালকও জানান, তিনি স্নেহাকে সিগনেচার ব্রিজের উপরই নামিয়ে দিয়েছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার আগে স্নেহা দেবনাথ তাঁর মাকে শেষবারের মত কী জানান?
নিখোঁজের আগে স্নেহা তাঁর মাকে ফোন করেছিলেন। গত ৭ জুলাই ভোর ৫.৫৬ মিনিটে স্নেহা শেষবারের মত মাকে ফোন করেছিলেন। ওই সময় তিনি জানান, পিটুনিয়া নামে এক বন্ধুর সঙ্গে তিনি সরাই রোহিলা প্ল্যাটফর্মে যাচ্ছেন। এরপর সকাল ৮.৪৫ মিনিট থেকে স্নেহার ফোন বন্ধ পেতে শুরু করে পরিবার। কী কারণে স্নেহা মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন, তা নিয়ে ছড়াতে শুরু করে ধোঁয়াশা। পিটুনিয়া নামে যে বন্ধুর সঙ্গে স্নেহা ৭ জুলাই ভোরে ছিলেন, তাঁর কাছে যায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর পরিবার। তবে পিটুনিয়া নামে ওই ছাত্রী পালটা দাবি করেন,৭ জুলাই তাঁর সঙ্গে স্নেহার দেখাই হয়নি। তিনি স্নেহার সঙ্গে ওইদিন দেখাই করেননি।
পিটুনিয়ার ওই দাবির পর স্নেহার পরিবার সংশ্লিষ্ট ক্যাব চালকের দ্বারস্থ হন। যাঁর ক্যাবে করে স্নেহা সেদিন যান। ওই ক্যাব চালকও জানান, তিনি দিল্লির সিগনেচার ব্রিজের কাছে স্নেহাকে ওইদিন নামিয়েছিলেন। স্নেহার মৃত্যু কীভাবে হল, তা নিয়ে যখন ধোঁয়াশা ছড়াচ্ছে, সেই সময় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। স্নেহার সঙ্গে কী হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশ জোর কদমে শুরু করেছে খোঁজ খবর।
আরও পড়ুন: Student Body Found: ৬ দিন ধরে নিখোঁজ, যমুনা নদী থেকে উদ্ধার পড়ুয়ার নিথর দেহ
সম্প্রতি স্নেহা কী ধরনের আর্থিক লেনদেন করেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশের তরফে জানানো হয়, গত ৪ মাস ধরে স্নেহা কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাঙ্কের সঙ্গে করেননি। ফলে গত ৪ মাস ধরে স্নেহা কোনও টাকাপয়সার লেনদেন ছাড়া কীভাবে বেঁচে ছিলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। শুধু তাই নয়, গত ৭ জুলাই স্নেহা যখন বাড়ি থেকে বেরোন, সেই সময়ও তাঁর কাছে কোনও জিনিসপত্র ছিল না বলেই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলিয়ে দেখছে পুলিশ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৭ জুলাই স্নেহা সকালে (যে সময়ের উল্লেখ রয়েছে) সিগনেচার ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর রবিবার নয়ডার নিগম বোধ ঘাট থেকে স্নেহা দেবনাথের দেহের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। পুলিশ রবিবার গীতা কলোনি ফ্লাইওভার থেকে ত্রিপুরার স্নেহা দেবনাথের দেহ উদ্ধার করে। এরপর পরিবারের এক সদস্য স্নেহার মৃতদেহ সনাক্ত করেন।
সিগনেচার ব্রিজের উপর যে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, তা কেন কাজ করছে না, তা নিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়। সিগনেচার ব্রিজের মত বিপদসঙ্কুল এলাকা এবং তার আশপাশের জায়গায় কেন সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে স্নেহার পরিবারের তরফে।