শোরুম উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ (ছবিঃX)

Tesla Car India: দশ বছরের গবেষণা, পরিকল্পনা শুরুতেই হোঁচট। ১০ বছরের পরিকল্পনার পর বিশ্বের ধনীতম শিল্পপতি ইলন মাস্কের টেসলা ইলেকট্রিক গাড়ি ভারতে বাজারে ঢুকে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০০টি অর্ডার এসেছে ইলন মাস্কের কোম্পানির গাড়ির জন্য। অথচ টেসলার আশা ছিল অন্তত আড়াই থেকে তিন হাজারটি গাড়ি বিক্রি হবে। কিন্তু টেসলার গাড়ি কেনা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের মানুষদের তেমন কোনও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। গত ১৫ জুলাই মুম্বইয়ে প্রথম টেসলার শোরুম খুলেছিল। টেসলা ভারতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্স (BKC) এবং দিল্লির নেহরু প্লেসে শোরুম খুলেছে। একটি ৫,০০০ বর্গফুটের শোরুমের জন্য মাসিক ভাড়া ১০-২৫ লক্ষ টাকা হতে পারে, বার্ষিক ১.২-৩ কোটি টাকা।

অত্যধিক দাম আর খারাপ রাস্তার কারণেই ভারতে টেসলার বাজার ঠান্ডা

ভারতে আপাতত টেসলার গাড়ির শুধু মডেল ওয়াই বিক্রি হচ্ছে। দুটি ভ্যারিয়েন্ট: রিয়ার হুইল ড্রাইভ (৫৯.৮৯ লক্ষ টাকা) এবং লং রেঞ্জ আরডব্লিউডি (৬৭.৮৯ লক্ষ টাকা)। মুম্বইয়ের শোরুমে আসা সব ক'টি গাড়িই আসেছে চিনের শাংহাই প্ল্যান্ট থেকে, কমপ্লিটলি বিল্ট-আপ (CBU) রুটে। ভারতের উচ্চ আমদানি শুল্ক (১০০ শতাংশেরও বেশি) গাড়ির দাম কার্যত দ্বিগুণ করে দিয়েছে। মার্কিন বাজারে যে গাড়ির দাম শুরু ৪৪,৯৯০ ডলার, ভারতে সেটি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭০,০০০ ডলার। দামসাপেক্ষ এই ট্যাগই সাধারণ গ্রাহকদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। প্রথমে ২,৫০০ গাড়ি আনার পরিকল্পনা থাকলেও অর্ডার কমে যাওয়ায় এখন ২০২৫ সালে কেবল ৩৫০ থেকে ৫০০ গাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাস্কের কোম্পানি। প্রথম চালান পৌঁছাবে সেপ্টেম্বরে। আপাতত টেসলার গাড়িগুলি হবে শুধু দেশের চার শহর: মুম্বই, দিল্লি, পুনে ও গুরগাঁও।

দেশের যে চার শহরেই শুধু অর্ডার করছে টেসলা

ভারতে এখনও টেসলার শুধু দু’টি শোরুম আছে- দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বই ও রাজধানী দিল্লিতে। এর বাইরে টেসলার সার্ভিস নেটওয়ার্ক কার্যত নেই। ফলে গাড়ির ডেলিভারিও সীমিত। সুপারচার্জার নেটওয়ার্কও একেবারে গোড়ার স্তরে। রাজধানী ও মুম্বইয়ে কিছু চার্জিং স্টেশন বসানো হলেও দেশের সার্বিক অবকাঠামোর অভাবই টেসলার সামনে বড় বাধা। মুম্বইয়ের অত্যন্ত খারাপ রাস্তা, অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক, গর্ত আর রাস্তার ধারে ঘুরে বেড়ানো পশু, সব মিলিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে টেসলার ব্র্যান্ড ইমেজ। ভারতের প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার এখনও খুবই সীমিত। এ বছর প্রথম ছ’মাসে ৪৫ থেকে ৭০ লক্ষ দামের গাড়ি বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৮০০ ইউনিট। সব মিলিয়ে ইভি বিক্রি ৪-৫% হলেও হাই-এন্ড গাড়ির গ্রাফ অনেকটাই চড়াই পথে।